সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৩:৪৭:৫৭ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

কোটচাঁদপুরে ৬০ বছর ধরে টিকে আছে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা

কোটচাঁদপুরে ৬০ বছর ধরে টিকে আছে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:



সময়ের পরিবর্তনে গ্রামবাংলার জীবনযাত্রায় এসেছে নানা পরিবর্তন। আধুনিকতার প্রভাবে হারিয়ে গেছে একসময়কার অনেক ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা। তবে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে এখনো ধরে রাখা হয়েছে প্রায় ছয় দশকের পুরোনো লাঠিখেলার ঐতিহ্য।

 

উপজেলার সলেমানপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দারা প্রায় ৬০ বছর ধরে প্রতি বছর আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে আয়োজন করে আসছেন এই ঐতিহ্যবাহী খেলা। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও ঢোল ও কাঁসির তালে লাঠিখেলার আয়োজন করা হয়েছে। কয়েক দিনব্যাপী এই খেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।
 

আয়োজকরা জানান, প্রতিবছর সলেমানপুর উত্তরপাড়া থেকে লাঠিখেলার দল বের হয়। তিন দিন ধরে চলে বিভিন্ন ধরনের লাঠির কসরত। খেলা পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন উত্তরপাড়ার খোকা মণ্ডল ও রমজান দফাদার।
 

এবারের আয়োজনে অংশ নিয়েছেন ২৫ থেকে ৩০ জন লাঠিয়াল। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইদ্রিস দফাদার, হান্নান দফাদার, মইদুল মুন্সি, শহিদুল মুন্সি ও লিয়াকত আলীসহ অনেকে।
 

লাঠিয়াল লোকমান হোসেনের বয়স ৫৫ বছর। ছোটবেলা থেকেই তিনি বাপ-দাদাদের লাঠিখেলা দেখে বড় হয়েছেন। পুরোনো অনেক খেলোয়াড় মারা যাওয়ায় এখন তাদের উত্তরসূরি হিসেবে তিনি এ ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
 

লোকমান হোসেন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বাপ-দাদাদের এই খেলা খেলতে দেখে আসছি। এখন পুরোনো অনেক খেলোয়াড় নেই। আমরা তাদের উত্তরসূরি হিসেবে ঐতিহ্যটি ধরে রেখেছি। আমাদের আশা, ভবিষ্যতে আমাদের ছেলেরাও এই খেলা চালিয়ে যাবে।’
 

খেলা শেষে স্থানীয়ভাবে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারী ও আয়োজকরা একসঙ্গে খাবার খান। সব মিলিয়ে লাঠিখেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়।
 

কোটচাঁদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপির সভাপতি এসকেএম সালাহউদ্দিন বুলবুল সিডল বলেন, ‘এটি আমাদের একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা। মাঝে কিছুদিন খেলাটি দেখা যায়নি, এমনকি তেমন অনুশীলনও ছিল না। এ বছর আবার সলেমানপুর এলাকা থেকে খেলাটি শুরু হয়েছে।’
 

তিনি বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে চলে আসা এই আয়োজন মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও আয়োজকদের এ ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
 

গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী খেলা সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেলেও সলেমানপুর উত্তরপাড়ার লাঠিয়ালরা এখনো ধরে রেখেছেন ছয় দশকের পুরোনো এই সংস্কৃতি। নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা পৌঁছে দিতে এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।