বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০১:৫৬:৫৭ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• লগি-বৈঠার তাণ্ডব ইতিহাসের জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধ: ডা. ইরান •       • কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী •       • রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৮১, মামলা ৪৮ •       • দুই হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনের ৭ দিনের রিমান্ড •       • মুরাদনগরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরির্দশন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ •       • মা হারালেন চিত্রনায়িকা পপি, চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোক •       • ২৪ ঘণ্টা পরও জ্বলছে ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসের আগুন, ১৫ কিমি এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ •       • স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতি ডা. জুবাইদা রহমানের আহ্বান •       • পটিয়ায় আবারও অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পুলিশ হেফাজতে •       • চার দিনের সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান •

লগি-বৈঠার তাণ্ডব ইতিহাসের জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধ: ডা. ইরান

লগি-বৈঠার তাণ্ডব ইতিহাসের জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধ: ডা. ইরান

ডেস্ক নিউজ, ঢাকা প্রেস:

 

 

 

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টন হত্যাকাণ্ডকে ফ্যাসিবাদী বর্বরতার নিকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। তিনি বলেছেন, "প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পিটিয়ে হত্যা এবং লাশের ওপর নৃত্য করার পৈশাচিক উল্লাস ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে মানবিকতা, সভ্যতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।"

 

গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। "রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর: বাকশালি নৃশংসতা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান" শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর লেবার পার্টি।

 

ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান আরও বলেন, "২৮ অক্টোবরের ঘটনা নিছক কোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষ ছিল না; বরং তা ছিল ভিন্নমত দমনে সহিংসতার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। এই হত্যাকাণ্ডের দায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রত্যেকের ভূমিকা চিহ্নিত করে তাঁদের আইনের আওতায় আনতে হবে।"

 

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক শক্তির সেই লগি-বৈঠার সহিংস তাণ্ডব দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে রক্তাক্ত করেছিল। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার পৈশাচিক মানসিকতা থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। ক্ষমতার মোহ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য মানবিকতা বিসর্জন দিলে কীভাবে গণতন্ত্রের আড়ালে বর্বরতার উত্থান ঘটে, সেদিনের ঘটনা ছিল তার বড় প্রমাণ।

 

ঢাকা মহানগর লেবার পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাসুদ আলম পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলামের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জোহরা খাতুন জুঁই ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম।

 

অ্যাডভোকেট জোহরা খাতুন জুঁই তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘ ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও ২৮ অক্টোবরের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না হওয়া দেশের বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসনের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। শহীদ পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য এটি চরম হতাশাজনক। ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।"

 

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম বলেন, "সভ্য রাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি চলতে পারে না। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, তা বিচারে রেহাই পাওয়ার ঢাল হতে পারে না। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি চাই না, আমরা দৃষ্টান্তমূলক ন্যায়বিচার চাই।"

 

সভাপতির বক্তব্যে মো. মাসুদ আলম পাটোয়ারী শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, পল্টনের রক্তাক্ত অধ্যায়ের বিচার নিশ্চিত করা কেবল একটি দলের দাবি নয়; এটি আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্ন। অতীতের অপরাধের বিচার না হলে ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকে যায়।

 

সভা থেকে সর্বসম্মতিক্রমে ২৮ অক্টোবরের পল্টন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলার অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং দায়ীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার সুনিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।

 

আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সাদেক আহমেদ, লেবার পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি তরিকুল ইসলাম সাদী, ঢাকা মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদ হাফিজ, যুবমিশনের যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল ইসলাম সজিব, মহানগর সদস্য মিসেস ঝুমা চৌধুরী, যাত্রাবাড়ী থানা সভাপতি হারুনুর রশীদ এবং ছাত্রমিশনের কেন্দ্রীয় সদস্য সাব্বির আহমেদ প্রমুখ।