কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
লুটপাটের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, গ্রাম থেকে শহর—সব পর্যায়ের মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়ে কাজ করছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এর আগে রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কসবা ও আখাউড়া উপজেলায় মোবাইল হাসপাতাল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যখাতে গতি ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে।
দেশের প্রায় সব জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের অবকাঠামো ও সক্ষমতার পরিস্থিতি একই রকম উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৯ সালে ১৯ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে এসব হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। এরপর আর কোনো সরকার হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা বাড়ায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ১৫১-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। এর মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে, রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কসবা ও আখাউড়া উপজেলায় চালু হওয়া মোবাইল হাসপাতাল কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ চিকিৎসাসেবা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, দাঁতের চিকিৎসা, বিভিন্ন রোগনির্ণয় পরীক্ষা এবং বিনা মূল্যে ওষুধ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে সহজে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন ও মোবাইল হাসপাতাল কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কসবা-আখাউড়ার সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার এবং উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতারা।







