বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৮:২৭:০৯ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী •       • রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৮১, মামলা ৪৮ •       • দুই হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনের ৭ দিনের রিমান্ড •       • মুরাদনগরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরির্দশন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ •       • মা হারালেন চিত্রনায়িকা পপি, চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোক •       • ২৪ ঘণ্টা পরও জ্বলছে ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসের আগুন, ১৫ কিমি এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ •       • স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতি ডা. জুবাইদা রহমানের আহ্বান •       • পটিয়ায় আবারও অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পুলিশ হেফাজতে •       • চার দিনের সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান •       • নরসিংদীতে বাসার গ্রিল কেটে ৫০ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি •

মাধবপুরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু: নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন

মাধবপুরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু: নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

 

হবিগঞ্জের মাধবপুরে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ আকলিমা আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন এবং পরবর্তী সময়ে কথিত সালিশ ও আপস-মীমাংসা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এক মানবাধিকারকর্মী।

 

মাধবপুরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু: নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন


 

গত ২৭ অক্টোবর এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বরাবর আবেদনটি করেন নুরুল হুদা চৌধুরী (ইলিয়াস)। তিনি আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি।
 

আবেদনে আকলিমার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, থানায় অভিযোগ গ্রহণ ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম যাচাই, কথিত সালিশে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা এবং নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
 

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাধবপুর উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের পৈলাবাড়ি গ্রামের আকলিমা আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের চান মিয়া চৌধুরীর প্রায় ১৬ বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। আকলিমার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়েও করেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
 

এ ছাড়া ইউরোপে যাওয়ার জন্য স্ত্রীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি এবং ওই টাকা দিতে না পারায় তাঁকে মারধরের অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নির্যাতনের সঙ্গে আকলিমার মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারী।
 

আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর অসুস্থ হয়ে পড়লে আকলিমাকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মাধবপুরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
 

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি, মৃত্যুসনদ এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ যাচাইয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন নুরুল হুদা চৌধুরী। একই সঙ্গে মৃত্যুর আগে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
 

থানায় অভিযোগ ও আটকের ঘটনা তদন্তের দাবি

আবেদনে প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, গত ২১ অক্টোবর রাত আনুমানিক ২টার দিকে হবিগঞ্জ আইনজীবী সমিতির শিক্ষানবিশ আইনজীবী কামাল খান মাধবপুর থানায় উপস্থিত হয়ে আকলিমার ভাই সুমন চৌধুরীকে বাদী করে একটি লিখিত অভিযোগ তৈরি করান। ওই অভিযোগে চান মিয়া চৌধুরী, তাঁর বোনজামাই জালাল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
 

আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, কামাল খান পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে চান মিয়া চৌধুরীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন এবং তাঁকে সারা রাত থানায় রাখা হয়। পরে কোন আইনগত প্রক্রিয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারী।
 

এ জন্য থানার সাধারণ ডায়েরি (জিডি), অভিযোগ গ্রহণের রেজিস্টার, মামলাসংক্রান্ত নথি এবং হাজত রেজিস্টার যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে অভিযোগ গ্রহণ থেকে শুরু করে আটক ও মুক্তির পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
 

কথিত সালিশ ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ

আকলিমার মরদেহ দাফনের পর স্থানীয় কয়েকজনের উদ্যোগে সালিশ ও আপস-মীমাংসা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছাতিয়াইন গ্রামের নানু মিয়া, সেলিম মিয়া, কবির খান চৌধুরীসহ কয়েকজনের নাম আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
 

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে মধ্যস্থতা করা হয়েছিল। উভয় পক্ষের স্বাক্ষরসংবলিত একটি স্ট্যাম্পে সমঝোতার শর্ত লিখে তা গোপন রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে কথিত আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
 

আবেদনকারী সালিশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, সমঝোতার প্রকৃত শর্ত এবং কোনো আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে তার ধরন ও উদ্দেশ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
 

পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান

এদিকে, মামলা-মোকদ্দমায় না জড়ানোর জন্য তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আকলিমার পরিবার। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
 

নুরুল হুদা চৌধুরী (ইলিয়াস) বলেন, কাউকে আগাম অপরাধী সাব্যস্ত করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধ এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
 

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটির মানবিক ও আইনগত গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আকলিমার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং তাঁর পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
 

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।