প্রকাশকালঃ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:০০ সময়

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইপিও) মো. মাহমুদুল হাসানকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাদের দাবি, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ‘অশালীন, রুচিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।

সংবাদগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষকরা।
গত ১ সেপ্টেম্বর বালাগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫২ জন প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের স্বাক্ষরসংবলিত ২১ পৃষ্ঠার স্মারকলিপি ইউএনওর কাছে জমা দেওয়া হয়। এর অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে শিক্ষকরা উল্লেখ করেন, গত ২৮ আগস্ট দৈনিক মানবজমিনসহ কয়েকটি গণমাধ্যম ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসানকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাদের অভিযোগ, এসব প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ভাষা ও উপস্থাপনা একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে।
শিক্ষকদের ভাষ্য, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। কিন্তু তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তারা মনে করেন।
স্মারকলিপিতে শিক্ষকরা আরও দাবি করেন, মো. মাহমুদুল হাসান তাদের কাছে একজন দায়িত্বশীল, বিনয়ী ও শিক্ষাবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষকদের সঙ্গে আচরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর ভূমিকা নিয়েও তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর প্রকৃত তথ্য ও প্রেক্ষাপট যাচাই করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন শিক্ষকরা।
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় শিক্ষক প্রতিনিধিদের মধ্যে আসিদ আলী, আব্দুল হান্নান, সন্তোষ চক্রবর্তী, মো. আব্দুস ছত্তার, মো. আতাউর রহমান, লায়েক মিয়া, রুহুল আমিন, জুনেদ মিয়া, সঞ্জয় দাস, কেতকী চক্রবর্তী, বিপ্লবচন্দ্র দেবনাথ, অনন্ত চন্দ্র দাস ও ইলিয়াস শাহসহ বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপির অনুলিপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিলেট বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক, সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সিলেট জেলা ও বালাগঞ্জ উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংবাদগুলোর প্রকৃত তথ্য ও প্রেক্ষাপট যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।