প্রকাশকালঃ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:১৪ সময়

সোহাগ আহম্মেদ, বিশেষ প্রতিনিধি, টাংগাইল:
শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও নেতৃত্বের বিকাশে নিয়মিত ব্যতিক্রমী কার্যক্রম পরিচালনা করছে সৃষ্টি কলেজ অব টাংগাইল। এরই ধারাবাহিকতায় কলেজটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘SCT Spark Science’ শীর্ষক বিজ্ঞান, আইসিটি ও কৃষি ফেয়ার। একই আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বাংলা অলিম্পিয়াড ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা।

২৯ আগস্ট শনিবার অনুষ্ঠিত এসব আয়োজনে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কলেজ প্রাঙ্গণ পরিণত হয় জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্প, কৃষিভিত্তিক উদ্ভাবনী ধারণা, আইসিটি মডেল এবং ব্যবহারিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সুযোগ পায়। পাশাপাশি বাংলা অলিম্পিয়াড ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তারা ভাষাগত দক্ষতা, যুক্তিবোধ, উপস্থাপনক্ষমতা ও বিশ্লেষণী চিন্তার চর্চা করে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রচলিত একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে। শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করাই এসব আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
একাডেমিক ফলাফলেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ২০২৫ সালের এইচএসসি ফলাফলে টাংগাইল জেলায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সৃষ্টি কলেজ অব টাংগাইল। একই সঙ্গে কলেজটির শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রতিবছর মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ অর্জন করছে।
শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি বিজ্ঞান, বিতর্ক, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ফলে তাদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
তাদের মতে, ‘SCT Spark Science’-এর মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষামুখী শিক্ষা দেয় না; বরং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ, সৃজনশীল ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে।
সৃষ্টি কলেজ অব টাংগাইলের ধারাবাহিক এমন উদ্যোগে ‘পড়াশোনায় সাফল্য, সৃজনশীলতায় শ্রেষ্ঠত্ব’—এই লক্ষ্য সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের পথ আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।