প্রকাশকালঃ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:২৬ সময়

হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের নিয়ে ‘মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকির’ প্রতিবাদ এবং সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে নাটোরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার দুপুরে হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে বনপাড়া কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন হেযবুত তওহীদের নাটোর জেলা সভাপতি আব্দুস সবুর খান।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুস সবুর খান অভিযোগ করেন, গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলামের আয়োজিত সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়। সমাবেশে সংগঠনটির ইমাম ও সদস্যদের নিয়ে ‘অগণতান্ত্রিক ও হিংসাত্মক’ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি দাবি করেন, ওই সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে সংগঠনটিকে দেশ থেকে উৎখাতের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি সমাবেশে অংশ নেওয়া নারীদের নিয়েও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রশাসনের দেওয়া শর্তগুলোও যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুস সবুর খান আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে উগ্রবাদীদের ইন্ধনে নোয়াখালীর পোরকরা গ্রামে সংগঠনটির ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের গ্রামের বাড়িতে চারবার সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব হামলায় দুই সদস্য নিহত এবং শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
তার দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে হেযবুত তওহীদের হাজারো সদস্য এবং নোয়াখালীতে পরিচালিত স্কুল, হাসপাতাল, খামার ও পোশাক কারখানাসহ অর্ধশতাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিরাপত্তাঝুঁকিতে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে হেযবুত তওহীদকে একটি অরাজনৈতিক ও সংস্কারমূলক আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করে আব্দুস সবুর খান বলেন, সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করে আসছে। সংগঠনটির সদস্যদের বিরুদ্ধে অতীতে প্রায় ছয় শতাধিক মামলা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, গত ৩১ বছরে এসব মামলায় কোনো সদস্য আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হননি।
তিনি আরও বলেন, দেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে ধর্ম পালন ও প্রচারের অধিকার দিয়েছে। তাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উসকানি, ফতোয়া বা হুমকির মাধ্যমে এ অধিকার বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়।
সংবাদ সম্মেলনে হেযবুত তওহীদের পক্ষ থেকে উসকানি ও ফতোয়া প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ ব্যবহার করে উসকানিমূলক প্রচারণা বন্ধ করা, সংগঠনটির কার্যালয়, সদস্যদের পরিবার ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় অধিকার সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।
এ সময় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিকদের উগ্রবাদ, মব সহিংসতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সংবিধান, আইনের শাসন ও নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান হেযবুত তওহীদের নাটোর জেলা সভাপতি।