প্রকাশকালঃ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৩:৩৭ সময়

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জনগণকেন্দ্রিক করতে ভারত সরকার আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও জোরদারের মাধ্যমে পারস্পরিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করতে চায় ভারত।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক হলেও বিভিন্ন সময়ে নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। সময় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের সঙ্গে এ সম্পর্কের ধরনও পরিবর্তিত হয়েছে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে পুনরায় গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্পিকার আরও বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অনেকটা সরকারকেন্দ্রিক ছিল। দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককেই ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একে অপরের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জবাবে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত সরকার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে জনগণকেন্দ্রিক করার বিষয়ে আগ্রহী। জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়, রোহিঙ্গা সংকট ও পুনর্বাসন, ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
এ সময় ভারতের লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্পিকারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান দীনেশ ত্রিবেদী। পাশাপাশি দুই দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এদিকে জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সংসদীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পারস্পরিক স্বার্থের বন্ধন রয়েছে। বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, মতবিনিময় ও পারস্পরিক সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকের শুরুতে জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলীর প্রশংসা করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। লুই আই কানের নকশায় নির্মিত এ ভবনের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যেরও প্রশংসা করেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ভারত একটি আধুনিক পার্লামেন্ট পরিচালনা করছে। বাংলাদেশও সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদীর মতো অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে পাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং দুই দেশের সংসদীয় যোগাযোগ বৃদ্ধিতে তিনি সেতুবন্ধ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সংসদীয় কূটনীতির সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা গেলে তা দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
বৈঠকে জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক আস্থা, স্থিতিশীলতা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।
সাক্ষাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, বাংলাদেশে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।