মোহাম্মদ করিম,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:-
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পাঁচ শিক্ষার্থী খাগড়াছড়ি থেকে অপহরণের একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে অপহৃতদের উদ্ধারে কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, গতকাল (বুধবার) সকালে খাগড়াছড়িতে বিজু উৎসব শেষে চবি ক্যাম্পাসে ফেরার পথে জেলার সদর উপজেলার গিরিফুল এলাকা থেকে পাঁচ শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। অপহৃত শিক্ষার্থীরা হলেন—চবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের রিশন চাকমা (পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের চবি শাখার সদস্য), চারুকলা ইনস্টিটিউটের অলড্রিন ত্রিপুরা ও মৈত্রীময় চাকমা, নাট্যকলা বিভাগের দিব্যি চাকমা এবং প্রাণীবিদ্যা বিভাগের লংঙি ম্রো।
ঘটনার পর থেকেই সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের উদ্ধারে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে ইউপিডিএফ-কে এই অপহরণের জন্য দায়ী করা হলেও, সংগঠনটি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, অপহরণকারীরা বৃহস্পতিবার (আজ) দুপুরে অপহৃত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে সাক্ষাৎ কোথায় হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু জানাতে পারেনি সূত্রটি।
অপহরণের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যয়নরত ১৮৩ জন আদিবাসী শিক্ষার্থী এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। চবির শিক্ষার্থী ভুবন চাকমা স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অপহরণ মানবাধিকারবিরোধী এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। অপহৃতদের নিরাপদে দ্রুত মুক্তির জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল জানান, “আমরা বিভিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ করছি—অপহৃতরা কার হেফাজতে আছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”







