সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৪:৪৪:৩৩ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

মুমিনের নবী-রাসুলদের প্রতি করণীয়

মুমিনের নবী-রাসুলদের প্রতি করণীয়

মুমিন পৃথিবীর সব নবী-রাসুলের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা লালন করে। আল্লামা সাদি (রহ.) বলেন, ‘তাদের (নবী-রাসুলদের) প্রতি এবং তারা যা কিছু নিয়ে এসেছে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, তাদের ভালোবাসা এবং তাদের শ্রদ্ধা করা ওয়াজিব।’ (তাওজিহুল আকিদা, পৃষ্ঠা ২০০)

মুসলমানরা শরিয়তে মুহাম্মদির অনুসরণ করলেও পৃথিবীর কোনো নবীর প্রতি তাদের কোনো বিদ্বেষ নেই। আর কেউ যদি বিদ্বেষ পোষণ করে তবে ইসলামের দৃষ্টিতে তার ঈমান গ্রহণযোগ্য নয়।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘কেউ আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং মুমিনদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে আল্লাহর দলই বিজয়ী হবে।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৫৬)


উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, আল্লাহ রাসুলদের ‘বন্ধুরূপে’ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। যার দাবি হলো, তাদের প্রতি অনুকূল মনোভাব পোষণ ও তাদের আনুগত্য প্রকাশ। যেমন শত্রুতার দাবি বিরোধিতা ও দূরত্ব। (মাজমুউল ফাতাওয়া : ২০/৪৯৮)

অন্য আয়াতে আল্লাহ নবীদের প্রতি শত্রুতা পোষণের ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর, তাঁর ফেরেশতাদের, তাঁর রাসুলদের এবং জিবরাইল ও মিকাইলের শত্রু, সে জেনে রাখুক, আল্লাহ নিশ্চয়ই অবিশ্বাসীদের শত্রু।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৯৮)

আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি একজন রাসুলের সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করে সে যেন সব রাসুলের সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করল। যেমন কেউ একজন নবীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলে তার জন্য সব নবীর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা অপরিহার্য হয়ে যায়। একইভাবে একজন নবীকে অস্বীকার করলে সব নবীকে অস্বীকার করার নামান্তর।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির : ১/৩৪১)


মুমিন মৌলিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে নবী-রাসুলদের ভেতর কোনো তারতাম্য করে না। তবে প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রতি তাদের ভালোবাসার প্রাবল্য থাকে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘বোলো, তোমার কাছে যদি আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা অপেক্ষা অধিক প্রিয় হয় তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের স্বজাতি, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যার মন্দা পড়ার আশঙ্কা কোরো এবং তোমাদের বাসস্থান যা তোমরা ভালোবাসো, তবে অপেক্ষা কোরো আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত। আল্লাহ সত্যত্যাগী সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করে না।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ২৪)

ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, উল্লিখিত আয়াত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ভালোবাসা ওয়াজিব হওয়ার দলিল। এ বিষয়ে উম্মতের মধ্যে কোনো মতবিরোধ নেই। তাদের ভালোবাসা অন্য সব কিছুর ওপর অগ্রগামী।’ (তাফসিরে কুরতুবি : ৮/৯৫)

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তাঁর পিতা-মাতা, সন্তান ও সব মানুষের চেয়ে প্রিয় হবো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৫)