লাউড স্পিকার ও মাইক যা বক্তার আওয়াজ বা ধ্বনিকে উচ্চ বা বহু লোকের কাছে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে আবিষ্কৃত হয়েছে। এটাকে আরবী ভাষায় مكّبر الصوت অর্থাৎ আওয়াজকে বুলন্দকারী বলা হয়। যা মূলত পরওয়ারদেগারে আলম রাব্বুল আলামীন ও আহকামুল হাকীমীনের এক নিয়ামত। এভাবে বিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক পাকা, বিমান, গাড়ি, বাল্ব, এসি, ফ্রিজ, মোবাইল ফোন, ইন্টারন্যাট ইত্যাদি যা মানুষের বিজ্ঞানের আবিস্কার, যা মানুষ নিজেদের জীবনমানকে সহজ করার, স্বস্তি ও শান্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে থাকেন। যা আল্লাহর সৃষ্টি ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ খ্যাত মানুষই আবিস্কার করেছেন আল্লাহ্ প্রদত্ত জ্ঞানেই।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ করেন-
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা‘আলা এমন সত্তা যিনি তোমাদের উপকারের জন্য যমীনের সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। [সূরা বাক্বারা: আয়াত-২৯]
অন্য আয়াতে এরশাদ করেন-
অর্থাৎ তোমরা কি দেখ নাই! নিশ্চয় মহান আল্লাহ্ আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সব কিছুকে তোমাদের জন্য বশীভূত করে দিয়েছেন। তাঁর প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল নেয়ামত তোমাদের উপর পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। [সূরা লোকমান, আয়াত-২০]
রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করেছেন-
অর্থাৎ সুতরাং হে জীন ও মানব। তোমরা উভয়ে আপন রবের কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে? [সূরা আর রহমান, আয়াত-১৩]
অর্থাৎ আল্লাহর নেয়ামতসমূহ অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই।
উল্লেখিত আয়াতসমূহ দ্বারা স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সবগুলোকে রাব্বুল আলামীন তার বান্দাদের কল্যাণের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। অতএব, যতক্ষণ পর্যন্ত কোন বস্তুর ব্যবহারে শরঈ নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত তা হালাল ও জায়েয হিসেবেই বিবেচিত হবে।
যেমন বিশিষ্ট সাহাবী হযরত সালমান ফারসী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, মহানবী হুযূর পুরনূর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন-
[তিরমিজী-১৭২৬, ইবনে মাজাহ ـ ৩৩৬৭]
অর্থাৎ হালাল ওই বস্তু যা আল্লাহ্ তা‘আলা স্বীয় কিতাবে হালাল করেছেন এবং হারাম ওই বস্তু যা আল্লাহ্ তা‘আলা স্বীয় কিতাবে হারাম করেছেন এবং যে সম্পর্কে মহান আল্লাহর কিতাবে প্রকাশ্যে ও স্পষ্ট উল্লেখ নেই তা ক্ষমাযোগ্য।
তদুপরি হাদীসে পাকে হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত আছে-
অর্থাৎ যা মুসলমানগণ ভাল হিসেবে গণ্য করেন/ দেখেন, তা মহান আল্লাহ্ তা‘আলার নিকটও উত্তম হিসেবে গণ্য। তদুপরি ক্বোরআন ও হাদীসের দলীল দ্বারা প্রমাণিত ও বাস্তবসম্মত কানুন (বিধান) হল-
অর্থাৎ প্রত্যেক বস্তুর আসল বা মূল বৈধ। অতএব, যতক্ষণ পর্যন্ত কোন বস্তু নিষেধ হওয়ার সুস্পষ্ট কোন দলীল ক্বোরআন-সুন্নাহয় পাওয়া না যায় ততক্ষণ তা বৈধ এবং জায়েয। [কিতাবুল আশবাহ্ ওয়ান্নাযায়ের, কৃত. ইমাম ইবনে নুজাইম হানাফী রহ.]








