সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৪:২৮:১০ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অভিযানে চীনের সহযোগিতা চান ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অভিযানে চীনের সহযোগিতা চান ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

 

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে এই অভিযান শুরু করেছেন। এর লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতির অবশিষ্ট সব গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন ও আয়ের পথ বন্ধ করে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা।
 

সোমবার নতুন এ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে বেসেন্ট বলেন, ইরানের কাছে অর্থ পৌঁছানোর শেষ পথটিও বন্ধ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় ছদ্মবেশী ডিজিটাল লেনদেন, জাহাজে জাহাজে তেল স্থানান্তর এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বর্ণের লেনদেনের মতো ব্যবস্থাগুলোও নজরদারির আওতায় আনা হবে।
 

হোয়াইট হাউসের ভাষায়, এটি ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার অবশিষ্ট অর্থনৈতিক ‘জীবনরেখা’ ধ্বংসের একটি নজিরবিহীন অভিযান।
 

তবে এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ ও দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে কূটনীতির পরিবর্তে সরাসরি সামরিক অভিযান চালিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ সেনা নিহত এবং বিপুলসংখ্যক ইরানি হতাহত হওয়ার পাশাপাশি ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ইরানের বিপুল সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ধ্বংস করা কিংবা দেশটির সরকারকে পতনের মুখে ঠেলে দেওয়ার লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
 

এখন সামরিক অভিযানের পর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে নতুন করে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে ওয়াশিংটন। কিন্তু এ পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে চীনের ভূমিকা।
 

২০২৫ সালে ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। ফলে ইরানের তেল বিক্রি ও বৈদেশিক আয় বন্ধ করতে হলে বেইজিংয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান, পারমাণবিক অস্ত্রের সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক বাজারে অতিরিক্ত উৎপাদনসহ নানা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যখন উত্তেজনা চলছে, তখন ইরান ইস্যুতে চীনের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করা কতটা বাস্তবসম্মত—তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
 

জর্জটাউন ল স্কুলের ভিজিটিং স্কলার পিটার হ্যারেল মনে করেন, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জটিল হতে পারে। তাঁর মতে, ইরানকে চাপে ফেলতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে মূলত দুটি পথ ছিল—চীনের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করা অথবা ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করা। কিন্তু চীনের সঙ্গে চলমান অর্থনৈতিক সম্পর্কের কারণে প্রথম পথটি বেছে নেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কঠিন।
 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান অনেকাংশে চীনের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। বেইজিং যদি ইরানের তেল আমদানি অব্যাহত রাখে এবং বিকল্প আর্থিক লেনদেনের পথ খোলা রাখে, তাহলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে।
 

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করার এই উদ্যোগকে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় বাজি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামরিক অভিযানের পর আবারও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পথে ফেরার মাধ্যমে ওয়াশিংটন এখন দীর্ঘমেয়াদি চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছে। তবে সেই কৌশল কতটা সফল হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে চীনের অবস্থানের ওপর।