সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৬:৪৯:৪১ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

আশুরার দিন রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত

আশুরার দিন রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত

আরবি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। রজব, জিলকদ ও জিলহজ ছাড়াও এই মাসকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এই মাসগুলোয় যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ রয়েছে। এ কারণে আরব সংস্কৃতি অনুযায়ী, স্থানীয়রা এ মাসে যুদ্ধবিগ্রহ, অন্যায়-অপরাধ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি বিশ্রামে সময় অতিবাহিত করত। মহররমের ১০ তারিখ আশুরার দিন। এই দিনে রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। আরবি শব্দ ‘আশারা’ থেকে আশুরা শব্দটি এসেছে। আশারা অর্থ দশ, আর আশুরা অর্থ দশম। দিনটি ঐতিহাসিক নানা ঘটনাবলিরও সাক্ষ্য বহন করে।

 

আশুরার দিনে আদি পিতা আদম (আ.) কে সৃষ্টি ছাড়াও তাকে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়। এই দিনেই হযরত নূহ (আ.) এর নৌযানের যাত্রা শুরু হয় ও মহাপ্লাবন শেষে ঈমানদারদের নিয়ে তিনি নৌকা থেকে নামেন। আবার আশুরার দিনেই কারবালার বিয়োগান্তরের মর্মান্তিক ঘটনার অবতারণা হয়।

 

রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে মুসলিমগণ আশুরার দিনে রোজা রাখতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমজানের সাওম (রোজা) ফরজ হওয়ার আগে মুসলিমগণ আশুরার রোজা পালন করতেন। সে দিনই কাবাঘর (গিলাফে) আবৃত করা হতো। তারপর আল্লাহ যখন রমজানের সাওম ফরজ করলেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আশুরার সাওম যার ইচ্ছা সে পালন করবে, আর যার ইচ্ছা সে ছেড়ে দেবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪৯৭)

 

অপর হাদিসে এসেছে, হুমায়দ ইবনু আবদুর রাহমান (রহ.) থেকে বর্ণিত, যে বছর মু’আবিয়া (রা.) হজ করেন সে বছর আশুরার দিনে (মসজিদে নববীর) মিম্বরে তিনি (হাদিস বর্ণনাকারী) তাকে বলতে শুনেছেন যে, হে মদিনাবাসীগণ! তোমাদের আলিমগণ কোথায়? আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, আজকে আশুরার দিন, আল্লাহ তা’আলা এর সাওম তোমাদের ওপর ফরজ করেননি বটে, তবে আমি (আজ) সাওম পালন করছি। যার ইচ্ছা সে সাওম পালন করুক, যার ইচ্ছা সে পালন না করুক। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৭৭)

 

অন্যদিকে, খোদ রাসুল (সা.) ও আশুরার দিনে রোজা রাখায় প্রাধান্য দিতেন। ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আশুরার দিনের সাওমের উপরে অন্য দিনের সাওমকে প্রাধান্য প্রদান করতে দেখিনি এবং এ মাস অর্থাৎ রমজান মাস (এর ওপর অন্য মাসের গুরুত্ব প্রদান করতেও দেখি নাই)। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৮০)

 

আবূ কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার এক ব্যক্তি রাসুল (সা.) এর কাছে সাওম নিয়ে প্রশ্নের একপর্যায়ে নবীজি বলেন, প্রতি মাসে তিন দিন সাওম পালন করা এবং রমজান মাসের সাওম এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত সারা বছর সাওম পালনের সমান। আর আরাফাত দিবসের সাওম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহর ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে। আর আশুরার সাওম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছরের গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যাবে। (সহিহ মুসলিম, ২৬১৭)