সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৮:০০:৩৪ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

আল্লাহর ভালোবাসা লাভের উপায় ও করণীয়

আল্লাহর ভালোবাসা লাভের উপায় ও করণীয়

আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের পর আশা ও ভয় অন্তরে ধারণ করা মানুষের কর্তব্য। অর্থাৎ আল্লাহর ভয়ে সব ধরনের পাপাচার থেকে বিরত থাকা এবং ভালো কাজের জন্য তাঁর কাছে সওয়াবের আশা রাখা। পাশাপাশি ভয় ও আশা নিয়ে মন্দ কাজ পরিহার ও ভালো কাজ অব্যাহত রাখা জরুরি। কিন্তু অনেকে পার্থিব জীবনে অন্যায় ও পাপাচারে লিপ্ত থাকে এবং মৃত্যু-পরবর্তী শাস্তির ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়ে।

আর মৃত্যু ঘনিয়ে এলে তখন আল্লাহর শাস্তি থেকে পালানোর চেষ্টা করে। অথচ আল্লাহর রাজত্বের বাইরে যাওয়ার সামর্থ্য ও ক্ষমতা কারো নেই। এমন অবস্থায় মানুষের চিন্তা-ভাবনার পরিবর্তন জরুরি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আকাশমণ্ডলী ও ভূপৃষ্ঠে এমন কিছু নেই, যা দয়াময়ের কাছে বান্দা হিসেবে উপস্থিত হবে না।

তিনি তাদের বেষ্টন করে রেখেছেন এবং তিনি তাদের বিশেষভাবে গণনা করেছেন।’ (সুরা মারয়াম, আয়াত : ৯৩-৯৫)


আবু সায়িদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) আগের যুগের এক ব্যক্তির ঘটনা বর্ণনা করেন। আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে অঢেল সম্পদ ও সন্তান দিয়েছিলেন। অতঃপর মৃত্যুশয্যায় সেই ব্যক্তি সন্তানদের বলল, আমি তোমাদের জন্য কেমন বাবা ছিলাম? সবাই বলল, আপনি আমাদের উত্তম বাবা ছিলেন।

সেই লোক জানাল, সে আল্লাহর জন্য কোনো কাজ জমা রাখেনি। আর আল্লাহ তাঁকে পেলে কঠিন শাস্তি দেবেন। তাই আমি মারা গেলে তোমরা পুড়িয়ে ফেলবে। আমি কয়লা হয়ে পড়লে আমাকে তোমরা ছাই বানাবে। এরপর যখন প্রচণ্ড ঝড় হবে সেদিন তোমরা আমাকে তাতে নিক্ষেপ করবে।

লোকটি এই বিষয়ে সন্তানদের কাছ থেকে শপথ নেন। সন্তানরা বাবার মৃত্যুর পর তার নির্দেশনা অনুসারে কাজ করে। প্রচণ্ড এক ঝড়ের দিন তার ছাই নিক্ষেপ করে। অতঃপর আল্লাহ বলেন, তুমি অস্তিত্বে আসো। তখন লোকটি পূর্ণাঙ্গ রূপ ধারণ করে। আল্লাহ বলেন, হে আমার বান্দা, তুমি এমন কাজ কেন করেছ? সে বলল, আপনার ভয়ে করেছি। অতঃপর আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৭৫০৬)


হাদিস থেকে শিক্ষা :
এক. আল্লাহর ভয় মানুষকে আল্লাহর প্রিয় করে তোলে। আল্লাহ চাইলে মানুষের অসংখ্য পাপ ক্ষমা করেন। যেমন হাদিসে বর্ণিত ব্যক্তি অন্তরে ভয় থাকার কারণে ক্ষমা লাভ করেছেন।

দুই. মহান আল্লাহ কল্পনাতীত শক্তিমত্তা ও ক্ষমতার অধিকারী। তিনি মানুষকে শূন্য থেকে সৃষ্টি করতে ও পুনজ্জীবন দান করতে সক্ষম। যেমন উল্লিখিত ঘটনায় আল্লাহর নির্দেশ ভূপৃষ্ঠ ও সমুদ্রে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছিন্নবিচ্ছিন্ন অংশ এক করে পূর্ণাঙ্গ মানুষের রূপ ধারণ করে।

তিন. পাপাচারে লিপ্ত মুমিনদের কাফির সাব্যস্ত করা যাবে না। কারণ সে মৃত্যুর আগে তাওবা করতে পারে কিংবা তাওবা না করে মারা গেলেও আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বিশ্বাস মতে আল্লাহ চাইলে তাকে ক্ষমা করতে পারেন।

চার. পাপকাজের নির্দেশ দেওয়া হলে তা পালন করা যাবে না। কারণ সৃষ্টিকর্তার অবাধ্য হয়ে কারো আনুগত্য করা যাবে না।