সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০২:১৯:৪৫ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

যিনি ইসলামের প্রথম মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন

যিনি ইসলামের প্রথম মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন

হিজরতের পর নবীজি (সা.)-এর হাতে নির্মিত হয় মসজিদ আল কুবা। নবীজি (সা.)-এর স্মৃতিধন্য এই মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন সাআদ ইবনে আয়িজ আল-কারাজ (রা.)। তাঁর নাম সাআদ। প্রসিদ্ধ সাআদ আল-কারাজ।

পিতা আয়িজ। অপর এক বর্ণনামতে আব্দুর রহমান। তিনি প্রসিদ্ধ সাহাবি আম্মার ইবনে ইয়াসিরের (রা.) আজাদকৃত গোলাম। কেউ কেউ আনসারের আজাদকৃত বলেছেন।

তবে সেটা নির্ভরযোগ্য নয়। কোনো কোনো হাদিসের সনদে তাঁকে ‘আম্মারের পুত্র বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি রাসুল (সা.)-এর মনোনীত মসজিদে কুবার মুয়াজ্জিন। (তাহজিবুল কামাল ১০/২৭৫, আল-ইসাবাহ : ৩/৫৪)


আল-কারাজ নামে খ্যাতির কারণ

‘কারাজ’ এক প্রকার গাছবিশেষ, যা দেখতে অনেকটা বাদামগাছের মতো। তার পাতা দ্বারা চামড়া দিবাগাত (শোধন) করা হয়। (মুজামুল ওয়াসিত্ব ও মুজামুর রায়িদ)

সাআদ ইবনে ‘আয়িজ (রা.) ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তিনি নানা পণ্যের ব্যবসা করে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হন। একবার কারাজ গাছ বা তার পাতার ব্যবসা করে তাতে খুব লাভবান হন। বিষয়টি রাসুল (সা.)-কে অবহিত করলে তিনি কারাজের ব্যবসাই করতে বলেন।

তখন থেকে তিনি কারাজের ব্যবসাই করেন এবং তা ধরে রাখেন। এভাবে তিনি একসময় সাআদ আল-কারাজ নামে প্রসিদ্ধ হয়ে যান। ইমাম নববী (রহ.) বলেন, কোনো কিতাবে আল-কারাজি উল্লেখ পাওয়া যায়। তা নিঃসন্দেহে ভুল। (তাহজিবুল কামাল : ১০/২৭৫, তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত ১/২১২; আল-ইসাবাহ ৩/৫৫)


আজানের দায়িত্ব
রাসুল (সা.) সাআদ আল-কারাজ (রা.)-কে মসজিদে কুবার মুয়াজ্জিন নিয়োগ করেন। রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত তিনি সে দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালের পর মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন বিলাল (রা.) খলিফা আবু বকর (রা.) থেকে অনুমতি নিয়ে আজানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। চলে যান তিনি সিরিয়ায়। তখন খলিফা আবু বকর (রা.) সাআদ আল-কারাজ (রা.)-কে মসজিদে কুবা থেকে বদলি করে মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন নিয়োগ করেন। অপর এক বর্ণনামতে বিলাল (রা.) আজানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন দ্বিতীয় খলিফা উমার (রা.)-এর খেলাফত আমলে। তখন উমার (রা.) মসজিদে কুবা থেকে সাআদ আল-কারাজ (রা.)-কে মসজিদে নববীতে নিয়োগ দেন। যেকালেই নিয়োগ হোক, তিনি নিয়োগের পর থেকেই মৃত্যু পর্যন্ত মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর প্রজন্মরা যুগ যুগ ধরে এই দায়িত্বে অধিষ্ঠিত থাকেন। (তাহজিবুল কামাল : ১০/২৭৬)

হাদিস বর্ণনা 
সাআদ আল-কারাজ (রা.) থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁর ছেলে আম্মার ও উমার ও নাতি হাফছ ইবনে উমার। (আল-ইসতিআব ২/৫৯৩, তাহজিবুত তাহজিব : ৩/৪৭৪)

ইন্তেকাল
আবু আহমাদ আল-আসকারি (রহ.) বলেন, সাআদ আল-কারাজ (রা.) হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের শাসনামলে ইন্তেকাল করেন। (তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত : ১/২১২)