সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৬:৪৮:৪৮ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

দরুদ পাঠ করবেন যখন

দরুদ পাঠ করবেন যখন

দরুদ পাঠ বস্তুত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। মুমিনের প্রতিদিনের পঠিত আমলের মধ্যে দরুদ পাঠ আল্লাহর কাছে একটি পছন্দনীয় আমল। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তি আমার সর্বাধিক নিকটবর্তী হইবে, যে আমার ওপর সর্বাধিক দরুদ পাঠ করবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৩৮৪)

 

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ স্বয়ং আল্লাহ তাআলাও তাঁর ফেরেশতাদের নিয়ে পাঠ করেন এবং তাঁর বান্দাদের পাঠ করার আদেশ করেন। কোরআনুল কারিমে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীজির ওপর দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনরা, তোমরাও নবীর ওপর দরুদ পাঠ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৬)

 

ফজিলতপূর্ণ এই আমল অন্য আমলের মতো নির্দিষ্ট কোনো সময় বা জায়গার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, বরং যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় তা আদায় করা যায়। তবে হাদিস থেকে বিশেষ কিছু সময় দরুদ পাঠের নির্দেশনা পাওয়া যায়।


১. দ্বিনি মজলিসে দরুদ পাঠ করা : যেকোনো ইসলামী মজলিসে রাসুল (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ জরুরি। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যেসব লোক কোনো মজলিসে বসেছে অথচ তারা আল্লাহর জিকির করেনি এবং তাদের নবীর প্রতি দরুদও পাঠ করেনি, তারা বিপদগ্রস্ত ও আশাহত হবে। আল্লাহ তাআলা চাইলে তাদের শাস্তিও দিতে পারেন কিংবা মাফও করতে পারেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৮০)

 

২. জুমার দিন দরুদ পাঠ : আনাস বিন মালেক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিন ও জুমার রাতে আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ যে আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর ১০টি রহমত নাজিল করেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১২০৯)

 

৩. আজানের পর দরুদ পাঠ করা : বিখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করিম (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, ‘তোমরা যখন মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে শোনো, তখন সে যা বলে তোমরা তাই বলো। অতঃপর আমার ওপর দরুদ পাঠ করো।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭৩৫)

 

৪. মোনাজাতের আগে দরুদ পাঠ করা : ফাজালাহ ইবনে উবাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক লোককে নবী (সা.) তাঁর নামাজের মধ্যে দোয়া করতে শুনলেন, কিন্তু নবী (সা.)-এর ওপর সে দরুদ পড়েনি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এই ব্যক্তি তাড়াহুড়া করেছে। তারপর তিনি তাকে ডাকলেন এবং তাকে বা অন্য কাউকে বলেন, ‘তোমাদের কেউ নামাজ আদায় করলে সে যেন আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও তাঁর গুণগান করে, তারপর রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে, তারপর তার মনের কামনা অনুযায়ী দোয়া করে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৭৭)

 

৫. মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭১৩)

 

৬. রাসুল (সা.)-এর নাম শুনলে দরুদ পাঠ করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সে-ই হচ্ছে কৃপণ, যার সামনে আমার নাম উচ্চারিত হয়েছে অথচ সে আমার ওপর দরুদ পড়েনি।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৪৬)

মহান আল্লাহ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠের তৌফিক দান করুন। আমিন।