সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:০৪:২২ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

যে নারী ছিলেন সিরাত গবেষক

যে নারী ছিলেন সিরাত গবেষক

দুররাহ বিনতে আবি সালামা (রা.) ছিলেন নবীজি (সা.)-এর পোষ্য ও বিশিষ্ট নারী সাহাবি। হাদিস গবেষকরা বলেছেন, দুররাহ (রা.)-এর অপর নাম রুকাইয়া। উম্মে সালামা (রা.)-এর সঙ্গে তিনি মহানবী (সা.)-এর ঘরে আসেন এবং তাঁর স্নেহ ও সান্নিধ্যে লালিত-পালিত হন। তাঁর পিতা আবদুল আসাদ আল কুরাইশি (রা.) ছিলেন নবীজি (সা.)-এর ফুফাতো ভাই ও দুধভাই।

তিনি ছিলেন নবীজি (সা.) ফুফু বাররাহ বিনতে আবদুল মুত্তালিবের ছেলে। দুররাহ (রা.) নবীজি (সা.)-এর সান্নিধ্যের বরকতে ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় বিশেষ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন, বিশেষত তিনি একজন মুহাদ্দিস, ফকিহ ও সিরাত গবেষক হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

দুররাহ (রা.)-এর পিতা আবু সালামা (রা.) ১১তম ব্যক্তি হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি দারুল আরকামে নবীজি (সা.)-এর কাছে দ্বিন শিক্ষা লাভ করেন। স্ত্রী-পরিবার নিয়ে দুইবার হাবশায় হিজরত করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করলে তিনিও মদিনায় হিজরত করেন। বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং উহুদের যুদ্ধে শহীদ হন। ইসলামের জন্য দুররাহ (রা.)-এর মা উম্মে সালামা (রা.)-এর আত্মত্যাগ অবিস্মরণীয়।


তিনি পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে হাবশা ও মদিনায় হিজরত করেন। হাবশা ও মদিনায় হিজরতকারী নারীদের ভেতর তিনি অগ্রগণ্য ছিলেন। আবু সালামা (রা.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি শিশুসন্তানকে নিয়ে সীমাহীন অসহায়ত্বের মধ্যে পড়ে যান। কেননা মদিনায় তাঁর আর কোনো আশ্রয় ছিল না। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে তোলেন।

রাবিবা’ বা পোষ্য সন্তান হিসেবে তাঁর শিশুকন্যা দুররাহ (রা.)-ও নবীজি (সা.)-এর ঘরে আশ্রয় লাভ করেন। আল্লামা ইবনে আবদুল বার, ইবনে আসির ও ইবনে হাজার আস্কালানি (রহ.) তাঁকে নবীজি (সা.)-এর সাহাবিদের তালিকাভুক্ত করেছেন। দুররাহ (রা.)-এর তিন ভাই ও দুই বোন ছিল। ভাইয়েরা হলেন সালামা, ওমর ও মুহাম্মদ আর বোনেরা হলেন জয়নব ও উম্মে কুলসুম বিনতে আবি সালামা। তিনি মা-বাবার সর্বকনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন।


দুররাহ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) ও উম্মে সালমা (রা.)-এর কাছে প্রতিপালিত হন এবং তাঁদের কাছ থেকে ইলম ও আমলের প্রশিক্ষণ লাভ করেন, যা তাঁকে জ্ঞান-গুণে সমৃদ্ধ করে। নবীপত্নীর কন্যা ও নবী (সা.)-এর ঘরে লালিত-পালিত হওয়ায় তাঁকে হাদিসে নববী ও সিরাতে রাসুল (সা.)-এর নির্ভরযোগ্য সূত্র মনে করা হতো।

আবু ওমর (রহ.) বলেন, উম্মে সালামা (রা.)-এর কন্যাদের ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পোষ্যদের মধ্যে দুররাহ (রা.) জীবনী ও ইতিহাস শাস্ত্রে পাণ্ডিত্যের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ইমাম বুখারি (রহ.)-সহ একাধিক মুহাদ্দিস একাধিক সনদে তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ তাঁকে যুগের শ্রেষ্ঠ ফকিহ (আইনবিদ) নারীদের একজন বলেছেন। তিনি যখন পরিণত বয়সে উপনীত হন, তখন কেউ একজন নবীজি (সা.)-এর কাছে তাঁর বিয়ের প্রস্তাব দেন। 

তখন তিনি বিস্মিত হয়ে বলেন, উম্মে সালামা আমার ঘরে থাকত! যদি আমি উম্মে সালামাকে বিয়ে না করতাম এবং সে আমার পোষ্য না হতো, তবু তাকে বিয়ে করা আমার জন্য বৈধ হতো না। কেননা তাঁর বাবা আমার দুধভাই।