প্রকাশকালঃ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:১৫ সময়

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড নডালিয়া গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। গত রোববার রাতে অতর্কিত হামলায় তিনি নিহত হন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
নিহত রমজান আলী নডালিয়া গ্রামের আবুল খায়েরের দ্বিতীয় ছেলে। তার বোন মিলি আক্তার জানান, প্রায় ৩৫ বছর ধরে রমজান পাকিস্তানে একটি টেক্সটাইল মিলে কাজ করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বজনদের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ ছিল না। বাবা-মা জীবিত থাকা অবস্থায় মাঝে মধ্যে তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর গত প্রায় আট বছর ধরে দেশে থাকা ভাই-বোনদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল না।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন রমজান আলী। বাংলাদেশে ফেরার জন্য তিনি পাকিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদনও করেছিলেন। তার ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য দূতাবাস থেকে সীতাকুণ্ড থানায় তথ্য পাঠানো হয়। পরে ডিএসবি (গোয়েন্দা শাখা) তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন দেয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দেশে ফেরার পর বিয়ে করে সংসার করার ইচ্ছা ছিল রমজানের। এ জন্য তার বোনেরাও পাত্রী খোঁজা শুরু করেছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে ফিরে মা-বাবার কবর জিয়ারত করার ইচ্ছার কথাও ফোনে জানিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছিল, এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরতে পারেন।
তবে দেশে ফেরার সেই আকাঙ্ক্ষা আর পূরণ হলো না। রমজানের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকাহত তার স্বজনরা এখন মরদেহ দেশে এনে মা-বাবার পাশে দাফনের চেষ্টা করছেন।
নিহতের বোন মিলি আক্তার বলেন, সরকারি সহযোগিতা পেলে রমজান আলীর মরদেহ দেশে এনে পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী মা-বাবার পাশে দাফন করা সম্ভব হবে। এ জন্য তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।