শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:৩৪:৫২ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• মুরাদনগরে সাবেক মেম্বারের বসতঘরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি •       • রাজধানীতে বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৩৪, মামলা ৩৭ •       • মুরাদনগরে ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি হোসেন গ্রেফতার •       • আল্লামা হাশেমী শিক্ষা বৃত্তি অর্জন: একই মঞ্চে বাবার গৌরব ও মেয়ের জোড়া সাফল্য •       • চুনারুঘাটে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন: চালক আটক, ১ লাখ টাকা জরিমানা •       • কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু, নিখোঁজ ২ •       • শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসবে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে আনসার-ভিডিপি: উপ-মহাপরিচালক ড. সাইফুর রহমান •       • হাতিয়ায় ছাত্রশিবিরের জুলাই শহীদ স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট সম্পন্ন: চ্যাম্পিয়ন তমরুদ্দি হাইস্কুল •       • কীর্তিমানের আলো ও মেধার সম্মান: রাজধানীতে চট্টগ্রাম সমিতির মহা-মিলনমেলা •       • বাঙ্গরা উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রথম মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত: পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠার আহ্বান •

খরস্রোতা ধরলা-বারোমাসিয়া এখন সবুজ ফসলের মাঠ

খরস্রোতা ধরলা-বারোমাসিয়া এখন সবুজ ফসলের মাঠ

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-


 

কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার খরস্রোতা নদীগুলো এখন বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। নদীর চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না। ধরলা-বারোমাসিয়া নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে এখন সবুজ ফসলের সমারোহ। শুকনো মৌসুমে চরগুলোতে প্রান্তিক চাষিরা বোরো, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অন্যদিকে জীবিকার সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের মৎস্যজীবীরা।

 

খরস্রোতা ধরলা-বারোমাসিয়া এখন সবুজ ফসলের মাঠ


 

সরেজমিনে দেখা যায়, ধরলা ও বারোমাসিয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা চরাঞ্চল সবুজ ফসলে ভরে গেছে। এ যেন সবুজের এক মহাসমারোহ। অথচ মাত্র এক থেকে দেড় যুগ আগেও পানির প্রবাহ ও প্রাণের স্পন্দন ছিল ধরলা ও বারোমাসিয়ায়। এসব নদীর প্রবল স্রোতে আতঙ্কে থাকতো নদী তীরবর্তী হাজারও বাসিন্দা। এখন পানি না থাকায় ধরলা -বারোমাসি নদীতে ছোট বড় প্রায় আড়াই শতাধিক চরের সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। 
 

শুকনো মৌসুমে ধরলা ও বারোমাসি নদীতে পানি না থাকায় মানুষজন পায়ে হেঁটে নদী চরে যাতায়াত করতে পারে। এসময় ধরলার বুকে জেগে ওঠা চরে বোরো ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেন নদী পাড়ের চাষিরা।  শুধু ধরলা ও বারোমাসি নদীতে নয়, এই দুই নদী সংলগ্ন নীলকমলসহ আশেপাশের সব নদ-নদীর বুকেও শতশত বিঘা জমিতে কৃষকরা গত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে বোরো ধান ও ভুট্টার আবাদ করে আসছেন।
 

বছরে একবার এসব নদ-নদীর বুকে চাষাবাদ করে কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসলেও নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দেওয়ায় ইঞ্জিন চালিত নৌকা বা ডিঙি নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারী জেলে পরিবারগুলো সংকটে পড়েছে।  ধরলাসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে বোয়াল, কাতলা, রুই, টেংরা, ভেটকি, বৈরালীসহ নানান প্রজাতির মাছ শিকার করে তারা জীবিকা নির্বাহ করত। পানি প্রবাহ না থাকায় এসব মাছের দেখা মেলে না।
 

ধরলা পাড়ের সোনাইকাজী এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, এক সময় এই ধরলা নদীই আমাদের ঘর-বাড়ি, আবাদি জমি-জমাসহ সব কিছুই গিলে নিয়েছে। সেই ধরলা এখন শুকিয়েছে। অনেকেই ধরলার আগ্রাসী রূপ দেখেছেন। ধরলার তীব্র ভাঙনে অনেকেই নি:স্ব হয়েছেন। এখন আমি প্রতি বছর ধরলার বুকে জেগে ওঠা পলিমাটিতে ৪ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করি। এ বছর বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। আশা করছি গত বছরের মতো এ বছরও প্রতি বিঘায় ২৮ থেকে ৩০ মণ ধান ঘরে তুলতে পারবো।
 

একই এলাকার কৃষক মকসেদ আলী ও মোন্নাফ আলী জানান, প্রায় ৮-১০ বছর ধরে ধরলা ও বারোমাসিয়া নদীর বুকে বোরো এবং ভুট্টার আবাদ করছি। প্রতি বছরই বোরো ও ভুট্টার ভালো ফলন হয়। আশা করছি এ বছরও ভাল ফলন হবে। তারা আরও জানান, প্রত্যেকেই তিন বিঘা বোরো ও দুই বিঘা ভুট্টা চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে এ বছর খরচটা অনেক বেশি হয়েছে। ধান ও ভুট্টার ভালো দাম না  পেলে তাদের লোকসান গুণতে হবে।   
 

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নিলুফা ইয়াছমিন জানান, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে। পরে ১০ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়। এর মধ্যে ধরলা-বারোমাসিয়া নদীর অববাহিকায় ১৫  হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।  

তিনি আরো জানান, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ২ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। এরমধ্যে ধরলা-বারোমাসিয়া নদীর বুকে ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। বর্তমানে ক্ষেত থেকে ভুট্টা তোলা হচ্ছে। গত বছরের মত এ বছরও বোরো এবং ভুট্টার ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূল থাকলে কৃষকরা ভালো ফলন পাবে এবং যথাযথ দাম পাবে।