হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ইজারা ও আইনি অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন ও পরিবহনের দায়ে মোঃ সুজন মিয়া নামে এক ট্রাক্টর চালককে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে উপজেলার মহিমাউড়া এলাকায় চুনারুঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিক আনোয়ারের নেতৃত্বে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। আটক সুজন মিয়া স্থানীয় উমরাজের ছেলে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে মহিমাউড়া এলাকায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় সিলিকা বালুভর্তি একটি ট্রাক্টরসহ চালক সুজন মিয়াকে হাতেনাতে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, পার্শ্ববর্তী পানছড়ি এলাকা থেকে কোনো রকম ইজারা বা অনুমতি ছাড়াই এসব বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধ স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হওয়ার অঙ্গীকার করলে তাকে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’-এর ১৫(১) ধারায় ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে কঠোর সতর্কবার্তাসহ মুক্তি দেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনায় চুনারুঘাট থানা পুলিশ, আনসার সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা সহযোগিতা করেন।
নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রভাব ও নিয়মিত বালু পাচারের অভিযোগ:
এদিকে আটক ট্রাক্টর চালকের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে চুনারুঘাটে অবৈধ বালু সিন্ডিকেট ও এর পেছনের চক্র নিয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা বুলবুল ও শামীমের প্রত্যক্ষ পরিচালনায় ফারুক মিয়া নামের এক ব্যক্তির জমি থেকে দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে এই সিলিকা বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি ট্রাক্টরে করে এই বিপুল পরিমাণ মূল্যবান বালু দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয় বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা অভিযুক্ত নেতাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
জনস্বার্থে প্রশাসন ও স্থানীয়দের বার্তা:
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌফিক আনোয়ার জানান, পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনস্বার্থ সুরক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা—শুধু বিচ্ছিন্ন জরিমানা বা চালকদের আটকেই সীমাবদ্ধ না থেকে, অবৈধ বালু উত্তোলনের মূল উৎস ও নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনবে প্রশাসন।







