শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:৫০:০৬ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• মুরাদনগরে সাবেক মেম্বারের বসতঘরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি •       • রাজধানীতে বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৩৪, মামলা ৩৭ •       • মুরাদনগরে ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি হোসেন গ্রেফতার •       • আল্লামা হাশেমী শিক্ষা বৃত্তি অর্জন: একই মঞ্চে বাবার গৌরব ও মেয়ের জোড়া সাফল্য •       • চুনারুঘাটে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন: চালক আটক, ১ লাখ টাকা জরিমানা •       • কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু, নিখোঁজ ২ •       • শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসবে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে আনসার-ভিডিপি: উপ-মহাপরিচালক ড. সাইফুর রহমান •       • হাতিয়ায় ছাত্রশিবিরের জুলাই শহীদ স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট সম্পন্ন: চ্যাম্পিয়ন তমরুদ্দি হাইস্কুল •       • কীর্তিমানের আলো ও মেধার সম্মান: রাজধানীতে চট্টগ্রাম সমিতির মহা-মিলনমেলা •       • বাঙ্গরা উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রথম মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত: পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠার আহ্বান •

‘ইতালির পথে’ বলে লিবিয়ায় নেওয়া – ছেলেকে ফেরত পেতে মায়ের করুণ আকুতি

‘ইতালির পথে’ বলে লিবিয়ায় নেওয়া – ছেলেকে ফেরত পেতে মায়ের করুণ আকুতি

ঢাকা প্রেস-নিউজ ডেস্ক:-

 

ইতালি যাওয়ার প্রলোভনে লিবিয়ায় পাচার হওয়া ছেলেকে ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলনে করুণ আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. রবিনের পরিবার। রোববার (তারিখ উল্লেখ করতে পারেন) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে রবিনের মা রহিমা বেগম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
 

রহিমা বেগম জানান, ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট সকালে আত্মীয় সাধনা বেগম (সাধুনী) তাদের বাসায় বেড়াতে এসে রবিনকে ইতালি পাঠানোর প্রস্তাব দেন। পরিবারটি প্রথমে আর্থিক অনটনের কথা জানিয়ে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলেও, সাধনা বেগম তাদের আশ্বস্ত করেন যে, তার ছেলেকেও এক ব্যক্তি মো. মনির হোসেন ইতালি পাঠিয়েছেন। পরে মনির ও তার স্ত্রী দিনা ইসলাম রবিনের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেন এবং ১৪ লাখ টাকার মৌখিক চুক্তি হয়।
 

পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মনির, দিনা ইসলাম ও আরও কয়েকজন রবিনের পাসপোর্ট এবং নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে যান। দিনা ও সাধনা জানান, মনির রবিনকে সঙ্গে নিয়ে ইতালিতে কর্মস্থলে নিয়ে যাবেন এবং পরবর্তীতে ঢাকায় ফিরে আসার পর বাকি ৯ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
 

তবে বাস্তবতা ছিল ভয়ংকর। রবিনের বাবা জানান, কিছুদিন পর তারা জানতে পারেন, ছেলেকে ইতালি নয়, লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়েছে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। এক পর্যায়ে রবিন নিজেই ফোনে কাঁদতে কাঁদতে পরিবারকে জানান, "তোমরা টাকা না পাঠালে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।"
 

সন্তানের জীবন বাঁচাতে তারা বিভিন্ন তারিখে মনিরের বাবা কালাম হাওলাদার, স্ত্রী দিনা ইসলাম, সাধনার মেয়ে রেখা আক্তার এবং মনিরের বোন সিমার বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠান। এছাড়া নগদ অর্থসহ সর্বমোট প্রায় ১৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়।
 

তবুও সন্তানের কোনো খোঁজ মেলেনি। রবিনের বাবা জানান, ২০২4 সালের মার্চ মাস থেকে তারা রবিনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না। পরিবারের ধারণা, মানব পাচারকারীরা তাদের ছেলেকে নির্যাতন করে হয়তো হত্যা করেছে।
 

এ অবস্থায় রবিনের পরিবার সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে, যাতে করে অন্তত তাদের ছেলের হদিস পাওয়া যায়।
 

সংবাদ সম্মেলনে রবিনের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি তার স্কুলের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।