সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৬:৪৯:৫৭ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

ভারতে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ‘মাইক্রো ড্রামা’, বাড়ছে বিনোদন খাতের নতুন বাজার

ভারতে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ‘মাইক্রো ড্রামা’, বাড়ছে বিনোদন খাতের নতুন বাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:



চীনে ‘দুয়ানজু’ নামে ক্ষুদে ড্রামার যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে তা ভারতের বিনোদন অঙ্গনে নতুন এক প্রবণতা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। ‘মাইক্রো ড্রামা’ নামে পরিচিত এই ধারার নাটকগুলো খুব অল্প সময়ের—মাত্র এক থেকে দুই মিনিটের এপিসোডে নির্মিত—তবুও টানটান কাহিনি ও নাটকীয় উপস্থাপনার কারণে দ্রুত দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করছে।

 

বিশেষ করে ব্যস্ত জীবনে স্বল্প সময়ে মোবাইলেই সহজে দেখার সুযোগ থাকায় এই ধারার জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। সাধারণত এসব ড্রামায় অতিরঞ্জিত ও নাটকীয় গল্প দেখা যায়, যেখানে ধনী-গরিবের ছদ্মবেশ, অসম প্রেম কিংবা প্রতিশোধের মতো পরিচিত কাহিনিই প্রাধান্য পায়। তবে স্বল্প দৈর্ঘ্য ও সহজ গল্প বলার ধরনই দর্শকদের বেশি আকৃষ্ট করছে।
 

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বর্তমানে ভারতে মাইক্রো ড্রামার বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার, যা ২০৩০ সালের মধ্যে বেড়ে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 

২০২৪ সাল থেকে দেশটিতে এই ধারার বিস্তার শুরু হয়। তখন কুকু ও রিলিসের মতো স্টার্টআপগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করে দর্শক টানতে থাকে। পরবর্তীতে বড় মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও এই খাতে বিনিয়োগ শুরু করে। Zee Entertainment Enterprises ও Balaji Telefilms ইতোমধ্যে নতুন কনটেন্ট নির্মাণে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া Mukesh Ambani-এর মালিকানাধীন জিওস্টার ‘তড়কা’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যেখানে শতাধিক মাইক্রো ড্রামা প্রকাশিত হয়েছে।
 

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে দর্শকদের অভ্যাসে পরিবর্তন আসায় এই ধারার উত্থান ঘটেছে। টেলিভিশনের পরিবর্তে এখন মানুষ বেশি সময় কাটাচ্ছেন মোবাইল ডিভাইসে, আর এই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে মাইক্রো ড্রামা নির্মাতারা।
 

এ ধরনের কনটেন্ট তৈরির খরচ তুলনামূলকভাবে কম। প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ রুপিতে একটি সিরিজ নির্মাণ করা সম্ভব। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখা। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আকর্ষণ তৈরি করতে না পারলে দর্শক সহজেই অন্য কনটেন্টে সরে যান। তাই প্রতিটি পর্বের শেষে রাখা হয় চমকপ্রদ মোড়।
 

তবে শিল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, শুধু সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে মানসম্মত ও মৌলিক গল্প নির্মাণই দীর্ঘমেয়াদে সাফল্যের চাবিকাঠি হবে। এই লক্ষ্যেই কিছু প্রতিষ্ঠান বাজেট বাড়িয়ে পরিচিত অভিনয়শিল্পীদের যুক্ত করছে।
 

সব মিলিয়ে, দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বিনোদনের যুগে ভারতে ‘মাইক্রো ড্রামা’ একটি সম্ভাবনাময় শিল্পখাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

 সূত্র: বিবিসি