বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০২:৪২:১৫ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• লগি-বৈঠার তাণ্ডব ইতিহাসের জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধ: ডা. ইরান •       • কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী •       • রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৮১, মামলা ৪৮ •       • দুই হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনের ৭ দিনের রিমান্ড •       • মুরাদনগরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরির্দশন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ •       • মা হারালেন চিত্রনায়িকা পপি, চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোক •       • ২৪ ঘণ্টা পরও জ্বলছে ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসের আগুন, ১৫ কিমি এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ •       • স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতি ডা. জুবাইদা রহমানের আহ্বান •       • পটিয়ায় আবারও অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পুলিশ হেফাজতে •       • চার দিনের সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান •

নিয়মিত মাছ খেলে শরীরে যেসব উপকার মেলে

নিয়মিত মাছ খেলে শরীরে যেসব উপকার মেলে

অনলাইন ডেস্ক

 

মাছ বাঙালির প্রতিদিনের খাবারের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে খাদ্যতালিকায় মাছের রয়েছে বিশেষ স্থান। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান, যা শরীর সুস্থ রাখতে এবং স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
 

পুষ্টিবিদদের মতে, সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে মাছ খেলে হৃদ্‌যন্ত্র, মস্তিষ্ক, পেশি, চোখ ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকার পাওয়া যায়। মাছ খাওয়ার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উপকারিতা তুলে ধরা হলো—
 

হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়ক

সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ, যেমন—স্যামন, সার্ডিন ও ম্যাকেরেলে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে এবং হৃদ্‌রোগের কিছু ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।
 

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখে

মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত মাছ খাওয়া মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি বা আলঝেইমার্স রোগ প্রতিরোধে মাছের নির্দিষ্ট ভূমিকা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
 

পেশি গঠন ও শক্তি জোগায়

মাছ উচ্চমানের ও সহজে হজমযোগ্য প্রোটিনের ভালো উৎস। প্রোটিন পেশি গঠন, ক্ষয়প্রাপ্ত কোষের মেরামত এবং শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও মাছ উপকারী খাদ্য।
 

চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে

মাছের বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান চোখের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে তৈলাক্ত মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চোখের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মাছের ভিটামিন ও খনিজ উপাদানও সামগ্রিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখে।
 

ত্বক ও চুলের পুষ্টি জোগায়

মাছের প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান ত্বক ও চুলের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখতে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত পুষ্টি ত্বকের আর্দ্রতা ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু মাছ খেলেই ত্বক উজ্জ্বল হবে বা চুল পড়া বন্ধ হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
 

হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক

কিছু মাছ, বিশেষ করে হাড়সহ খাওয়া যায় এমন ছোট মাছ, ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। আবার তৈলাক্ত সামুদ্রিক মাছ থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়, যা শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে এবং হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
 

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সহায়তা করে

মাছের প্রোটিন, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখতে মাছের পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূল, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি।
 

যেভাবে মাছ খেলে বেশি উপকার মিলবে

মাছের পুষ্টিগুণ পেতে ভাজা মাছের পরিবর্তে ঝোল, ভাপানো বা কম তেলে রান্না করা মাছ বেছে নেওয়া যেতে পারে। খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের মাছ রাখাও ভালো। পাশাপাশি মাছ ভালোভাবে পরিষ্কার ও রান্না করে খেতে হবে এবং অতিরিক্ত লবণ ও তেল এড়িয়ে চলতে হবে।
 

সব মিলিয়ে, সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত মাছ খাওয়া সুস্থ জীবনযাপনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে শুধু মাছের ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা প্রয়োজন।