বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:৩৭:৩৫ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ শনিবার •       • লগি-বৈঠার তাণ্ডব ইতিহাসের জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধ: ডা. ইরান •       • কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী •       • রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৮১, মামলা ৪৮ •       • দুই হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনের ৭ দিনের রিমান্ড •       • মুরাদনগরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরির্দশন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ •       • মা হারালেন চিত্রনায়িকা পপি, চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোক •       • ২৪ ঘণ্টা পরও জ্বলছে ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসের আগুন, ১৫ কিমি এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ •       • স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতি ডা. জুবাইদা রহমানের আহ্বান •       • পটিয়ায় আবারও অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পুলিশ হেফাজতে •

আমদানির তুলনায় সাড়ে তিনগুণ দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে আলু

আমদানির তুলনায় সাড়ে তিনগুণ দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে আলু

ঢাকা প্রেস
সোহাগ আহম্মেদ,বিশেষ প্রতিনিধি:-


 

মৌসুমের শেষদিকে বাজারে আলুর সরবরাহ যথেষ্ট থাকলেও দাম বেড়েই চলেছে। ভারত থেকে প্রতি কেজি আলু ২১ টাকা ৬০ পয়সা দরে আমদানি করা হলেও, পরিবহন ও অন্যান্য খরচসহ পাইকারি পর্যায়ে এটি সর্বোচ্চ ২৮ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৩৫ টাকায় বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু বাজারে সেই আলু ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে ৭৫ টাকায়।
 

এদিকে কৃষকের নতুন আলু বাজারে আসতে শুরু করেছে এবং আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবুও সিন্ডিকেটের কারণে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
 

সিন্ডিকেটের কারসাজি

জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা শ্যামবাজারের আড়তদাররা। তারা আমদানিকৃত আলু অবৈধ মুনাফার লক্ষ্যে দুই স্তরের সিন্ডিকেট তৈরি করে পাইকারি পর্যায়ে ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি করছে। এই দামে আড়তদাররা আলু বিক্রি করলে খুচরা পর্যায়ে ক্রেতাদের দিতে হচ্ছে ৭৫ টাকা বা তারও বেশি।
 

এছাড়া হিমাগারে সংরক্ষিত পুরাতন আলু নিয়েও চলছে আরেকটি সিন্ডিকেট। হিমাগার থেকে প্রতি কেজি আলু ৩৫-৪০ টাকার পরিবর্তে ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এই আলু পাইকারি বাজার পেরিয়ে খুচরা পর্যায়ে ৭৫-৮০ টাকায় পৌঁছাচ্ছে। অথচ এক মাস আগেও এই আলুর দাম ছিল ৫৫-৬০ টাকা।
 

ভোক্তাদের ক্ষোভ

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা মো. রবিউল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "প্রতি বছর শীতের আগে আলুর দাম ২৫ টাকার নিচে নেমে আসে। এখন এক কেজি আলুর দাম ৭৫ টাকা হওয়া সম্পূর্ণ অরাজকতা। এসব দেখার কেউ নেই?"
 

বিশেষজ্ঞের মতামত

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, "কোনো সরকারই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেনি। জনগণের প্রত্যাশা ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সিন্ডিকেট ভাঙবে। কিন্তু তাও হয়নি। চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়ার পর কিছুদিন পণ্যের দাম কমেছিল। কিন্তু নতুন করে সিন্ডিকেট সক্রিয় হওয়ায় দাম আবার বেড়ে গেছে।"
 

তিনি আরও বলেন, "সরকার জানে কারা সিন্ডিকেট চালায়। কার্যকর পদক্ষেপ নিলে দাম কমানো সম্ভব। কিন্তু গাফিলতির কারণে ভোক্তারা গলাকাটা দামের শিকার হচ্ছেন।"
 

এভাবে বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে আলুর মতো একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে।