মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৩:৪৯:২১ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

গর্ভাবস্থায় রোজা রাখা

গর্ভাবস্থায় রোজা রাখা

গর্ভাবস্থায় রোজা রাখা যাবে কি না, এই প্রশ্নের উত্তর সরাসরি দেওয়া যাবে না। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রাখা বাচ্চার ওজনের ওপর প্রভাব ফেলে না। কিন্তু কোনো গর্ভবতী মায়ের যদি ডায়াবেটিস থাকে এবং তিন বেলা ইনসুলিন নিয়ে থাকেন, তবে তার রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ব্লাড সুগার কমে যেতে পারে এবং পানিশূন্যতার আশঙ্কা থাকে।

গর্ভাবস্থায় যদি শারীরিক অবস্থা রোজা রাখার মতো না হয়, সে ক্ষেত্রে রোজা পরে করে নেওয়া যায় বলে ইসলামিক স্কলাররা মত দিয়েছেন। যদি সুস্থ অনুভব না করেন, তাহলে প্রয়োজনে আপনি আপনার ডাক্তার ও ইসলামিক স্কলারের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিন রোজা রাখতে পারবেন কি না।


গর্ভবতী মায়েরা রোজা রাখলে যেসব সতর্কতা অবলম্বন করবেন—

* ক্লান্তি কমাতে বিশ্রামের সময় বাড়িয়ে দিন

* যত দূর পারা যায় দুশ্চিন্তামুক্ত থাকুন

* দিনের বেলায় বেশি হাঁটবেন না, অতিরিক্ত পরিশ্রম করবেন না

* ভারী কিছু বহন করবেন না

* সাহরি ও ইফতারে স্বাস্থ্যকর খাবার খান

* যদি গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকে তাহলে চিনি, মিষ্টি, মিষ্টিজাতীয় ফল যত দূর পারা যায় এড়িয়ে চলুন।

* ইফতারে সহজে হজম হয় এমন খাবার খান। সাহরিতে ফাইবার জাতীয় খাবার রাখুন। যেটা আপনাকে অনেকক্ষণ এনার্জি দেবে।

* পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান

* ইফতারের পর পর্যাপ্ত পানি পান করুন


যেসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন—

* গর্ভের সন্তানের নড়াচড়া কম মনে হলে

* তলপেটে ব্যথা অনুভব করলে

* পর্যাপ্ত বিশ্রাম করার পরও ঘুম ঘুম ভাব বা দুর্বলতা অনুভব হলে

* বমি ও মাথা ব্যথা হলে

* জ্বর জ্বর ভাব হলে

* ঘন ঘন প্রস্রাব হলে এবং প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হলে


যদিও ইসলামে গর্ভবতী মায়েদের রোজা রাখার ব্যাপারে শিথিলতা আছে, মায়েরা রোজা রাখতে পারবে কি না, তা নির্ভর করবে তার শারীরিক অবস্থার ওপর। গর্ভবতী মা ও গর্ভস্থ শিশু উভয়ই যদি সুস্থ থাকে তাহলে রোজা রাখতে বাধা নেই।

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি হয়। তাই এই সময়ে মায়ের সঠিক মাত্রার পুষ্টি, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, ফলিক এসিড খেতে হয়। তাই বাচ্চার ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিলে ডাক্তার ও ইসলামিক স্কলারদের পরামর্শে রোজা পরে করে নিতে পারেন।


পরামর্শ দিয়েছেন-

ডা. মো. মাজহারুল হক তানিম

রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি ও ইনফার্টিলিটি বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

শাহবাগ, ঢাকা।