মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৩:৫৩:৩৮ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

উখিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধ, পূজা বন্ধের হুমকি ঘিরে নতুন পরিস্থিতি

উখিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধ, পূজা বন্ধের হুমকি ঘিরে নতুন পরিস্থিতি

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

 

কক্সবাজারের উখিয়া বাজারে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধপূর্ণ জমি উদ্ধার ও দেয়াল সংস্কারের দাবিতে রতন গংদের সংবাদ সম্মেলন এবং আসন্ন পূজা উদ্‌যাপন না করার ঘোষণাকে ঘিরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। এ পরিস্থিতিতে বিরোধ নিষ্পত্তিতে উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রতন গংদের পক্ষ থেকে মুন্সি পরিবারের কাছ থেকে দাবিকৃত জমি উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরীর উদ্যোগে দুই পক্ষকে নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিরোধপূর্ণ স্থানের আংশিক ভাঙা দেয়াল প্রশাসনের উদ্যোগে সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে রতন গংদের দায়ের করা আপিল মামলার রায় বা ডিক্রি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ স্থানে কোনো পক্ষই প্রবেশ করতে পারবে না বলে শর্ত দেওয়া হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চুক্তি সম্পাদনে বিলম্ব হওয়ায় রতন গংদের পক্ষ থেকে নতুন করে কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। তাঁদের পক্ষ থেকে অবশিষ্ট দেয়ালও সংস্কারের দাবি জানানো হয়। তা না হলে আসন্ন পূজা বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিষয়টি পুনরায় প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্সি পরিবারকে নিয়ে আবারও বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মুন্সি পরিবারের পক্ষ থেকে টিনের বেড়া দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় আসে।

পরবর্তী সময়ে মুন্সি পরিবারের পক্ষ থেকেও সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে তাঁরা নিজেদের অবস্থান ও অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁদের সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত বক্তব্য ও অভিযোগের বিস্তারিত যাচাই করা প্রয়োজন।

জমির মালিকানা নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমিটি বিএস ৭০২৯ দাগে অবস্থিত এবং এর পরিমাণ আনুমানিক ২৫ শতক। সংশ্লিষ্ট পক্ষের দখলে প্রায় ৭০ শতক জমি রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। জমিটির মূল মালিক জেলা প্রশাসক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ১৯৮৬-৮৭ সালের শ্রেণি পরিবর্তনসংক্রান্ত একটি মামলায় জাকের মুন্সির নাম প্রস্তাব ও সুপারিশসহ জেলা প্রশাসকের অনুমোদন পেয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এসব তথ্যের সত্যতা সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড, আদেশ ও মামলার নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি ও আদালতের আদেশের ভিত্তিতেই বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে জমির মালিকানা বা দখল নিয়ে কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

একই সঙ্গে ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন। জমিসংক্রান্ত বিরোধ আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি এবং উভয় পক্ষের অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।