আলমগীর হোসাইন হৃদয়, জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের মেলান্দহে চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন দুই সন্তানের এক জননী। প্রেমিক আলী হোসেনের খোঁজ না পেয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের রূপসীহাঁটা গ্রামে তাঁর বাড়িতে অনশন শুরু করেন ওই নারী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত আলী হোসেন ওই গ্রামের সুরুজ্জামান শুটকুর ছেলে। অনশনরত নারীর নাম নুরজাহান। তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করেন। তাঁর মূল বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের ভালুকা এলাকায়। বর্তমানে তিনি নানির বাড়ি টুপকার চরে থাকেন। এর আগে মাদারীপুরে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। ওই সংসারে ১৩ ও ১২ বছর বয়সী দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
নুরজাহানের অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ২২ বছর বয়সী আলী হোসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাঁর আগের বিয়ে ও সন্তানদের বিষয়ে সবকিছু জানার পরও আলী হোসেন সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
নুরজাহান জানান, নারায়ণগঞ্জে পোশাক কারখানায় কাজ করে উপার্জিত অর্থ থেকে তিনি প্রতি মাসে আলী হোসেনকে তিন থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতেন। তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আলী হোসেনের পাঠানো টাকা দিয়ে গর্ভপাত করান বলেও দাবি করেন তিনি।
নুরজাহানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত তাঁরা মেলান্দহের ডেফলা এলাকায় তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে একসঙ্গে ছিলেন। রবিবার দুপুরে মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ এলাকায় পৌঁছালে আলী হোসেন তাঁর মায়ের অসুস্থতার কথা জানান। পরে ‘প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার’ কথা বলে সেখান থেকে চলে যান তিনি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাঁর খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন নুরজাহান।
পরে আলী হোসেনের রেখে যাওয়া একটি ব্যাগ ফেরত দেওয়ার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রাত ১০টার দিকে উপজেলার জিন্নাহ মার্কেটে ব্যাগটি নিতে আসেন তিনি। এ সময় নুরজাহান তাঁকে ডাক দিলে স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে কৌশলে আলী হোসেনকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর থেকে আলী হোসেনের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে এবং তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
কোনো উপায় না পেয়ে সোমবার দুপুরে আলী হোসেনের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন নুরজাহান। তিনি বলেন, “সে সবকিছু জেনেই চার বছর ধরে আমার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। আমার উপার্জনের টাকা তাকে দিয়েছি। এখন আমার মান-সম্মান সব শেষ। আমি স্ত্রীর মর্যাদা চাই, তাকে ছাড়া এখান থেকে যাব না।”
এদিকে ঘটনার পর থেকে আলী হোসেনের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বাড়িটিতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
স্থানীয় বাসিন্দা নূর ইসলাম মোজা বলেন, “মেয়েটি দুপুর থেকে অবস্থান করছে। ভুল শুধু এক পক্ষ থেকে হয় না, তবে অভিযোগ সত্য হলে ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা উচিত।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আলী হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর স্বজনেরা বাড়িতে না থাকায় তাঁদের বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহমুদুল হক বলেন, “ঘটনাটিতে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিরোনামে অভিযোগের ভারসাম্য আনোঅভিযোগ ও তথ্য আলাদা করে লেখো







