মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ এ ১২:২১:৫৬ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• রাশেদ খানকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির •       • রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে শতভাগ পাস, ৪৬ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ •       • এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ শনিবার •       • লগি-বৈঠার তাণ্ডব ইতিহাসের জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধ: ডা. ইরান •       • কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী •       • রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৮১, মামলা ৪৮ •       • দুই হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনের ৭ দিনের রিমান্ড •       • মুরাদনগরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরির্দশন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ •       • মা হারালেন চিত্রনায়িকা পপি, চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোক •       • ২৪ ঘণ্টা পরও জ্বলছে ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসের আগুন, ১৫ কিমি এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ •

বর্ষা এলো-গেলো, তবু ব্রিজ সংস্কার হলো না

বর্ষা এলো-গেলো, তবু ব্রিজ সংস্কার হলো না

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-

 

 

কুড়িগ্রামের উলিপুরে বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কার হয়নি ভেঙে পড়া ব্রিজের। গত বছর পানির তীব্র স্রোতে ব্রিজটি ভেঙে যায়। তখন থেকে যান চলাচল ও যাতায়াত করতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ৬ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

 

উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কামাল খামার গ্রামের তেতুলতলা থেকে দূর্গাপুরগামী সড়কে ব্রিজটি দীর্ঘদিন থেকে পথচারীসহ ওই এলাকাবাসীর দূর্ভোগের কারণ হলেও নির্বিকার কর্তৃপক্ষ।

বর্ষা এলো-গেলো, তবু ব্রিজ সংস্কার হলো না

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দেশ স্বাধীনের পূর্বে ব্রিজটি নির্মিত হয়। এর পর থেকে ব্রিজটির কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। এ ব্রিজের উপর দিয়ে দুর্গাপুর ইউনিয়নের বাকারা, কামাল খামার, সাদিরগ্রাম, দালালি পাড়া, জানজায়গির ও দুর্গাপুর বাজার এলাকাসহ আশপাশের ৬ থেকে ৭টি গ্রামের প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এছাড়া এ ব্রিজের ওপর দিয়ে বিভিন্ন এলাকার পথচারী, রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, মিশুকসহ অনেক যানবাহন চলাচল করে। গত বছর মার্চে বুড়ি তিস্তা নদীর খননকাজ শুরু হলে বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোতের কারণে ব্রিজটির একাংশ ভেঙে পড়ে। পরে স্থানীয়রা অস্থায়ী ভিত্তিতে ব্রিজের সঙ্গে জোড়া দিয়ে একটি কাঠের সাঁকো তৈরি করে পথচারীদের চলাচলের ব্যবস্থা করে দেন। তৈরি করা সাঁকো দিয়ে যানবাহন পারাপার করতে প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটছে।

 

এলাকাবাসী মোসলেম উদ্দিন (৭০), মোফাচ্ছেল মিয়া (৪২), বাবলু মিয়া (৪০), বিপ্লব সরকার (৩৮), নুরনবী (৪২), মোসলেম (৩২) ও আলাউদ্দিন (৫০) সহ আরও অনেকে বলেন, পাকিস্তান আমলের তৈরি ব্রিজটি অদ্যাবধি কোন সংস্কার হয়নি। গত বছর অতিবৃষ্টির কারণে পানির স্রোতে ব্রিজটি ভেঙে যায়। এতে আমরা এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছি। চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের জানানোর পড়েও পাইনি কোন প্রতিকার। প্রায় প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। অনেকে হচ্ছেন ক্ষতির শিকার। এতে নিত্যদিনে ঘটছে দুর্ঘটনা।

 

দূর্ঘটনার শিকার অটোরিকশা চালক হাফিজুর রহমান, বৈদ্যনাথ চন্দ্র ও মোজাম্মেল হোসেন জানান, আমরা যাত্রী নিয়ে ব্রিজের ওপর দিয়ে যেতে পারিনা। ব্রিজের এপারে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে অটোরিকশাটি স্থানীয় লোকের সহায়তায় পাড় করে ওপারে আবার যাত্রী উঠিয়ে যেতে হয়। যার কারণে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই সেতুর ওপর দিয়ে মানুষ উপজেলা শহরসহ দুর্গাপুর হাট, ইউনিয়ন পরিষদ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও পার্শ্ববর্তী পান্ডুল ইউনিয়নসহ বিভিন্ন জায়গায় পথচারী, শিক্ষার্থীসহ অসুস্থ রোগী যাতায়াত করেন। ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ যোগাযোগের খুব অসুবিধা হয়ে গেছে।

 

ব্রিজের উপর দিয়ে চলচলকারী শিক্ষার্থী নুর মোহাম্মদ, আব্দুল মালেক, মরিয়মসহ আরও অনেক শিক্ষার্থী বলেন, ভেঙে পড়া ব্রিজের উপর দিয়ে স্কুলে যেতে আমরা ভয় পাই। কখন যেন নিচে পড়ে যাই। প্রায় সময় দুর্ঘটনা দেখে ভেঙে পড়া ব্রিজ দিয়ে স্কুলে যেতে ভয় করে।

 

দুর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, ব্রিজটি অনেক পুরাতন। সংস্কারের অভাবে গত বছর ভেঙে পরে। ব্রিজটির উপর দিয়ে চলাচল করতে এলাকাবাসীর অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। আশা করি দ্রুতই কাজ শুরু হবে।

 

উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার জানান, ওই এলাকার চেয়ারম্যান বিষয়টি আমাকে অবগত করেছেন। দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।