মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:০৮:১৭ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

বিচার চাই না, আপনারা বিচার করতে পারবেন না

বিচার চাই না, আপনারা বিচার করতে পারবেন না

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ড ঘিরে গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। তিনি সরাসরি গণমাধ্যমের সামনে বিচারব্যবস্থা নিয়ে অনাস্থা ও হতাশার কথা জানান।

 

তিনি বলেন, আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই।

 

রামিসার বাবা বলেন, ‘আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে। এরপর এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।’

 

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী সোহেল রানাকে (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসেন।

 

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে একই ভবনের বাসিন্দা দম্পতি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

 

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা মাত্র অল্প সময় আগে ওই এলাকার বিপরীত ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন। ঘটনার দিন সকালে শিশুটিকে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতির সময় তার মা তাকে খুঁজতে গিয়ে ফ্ল্যাটের সামনে জুতার সন্ধান পান, এরপরই সন্দেহ তৈরি হয়।

 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দরজার বাইরে যখন শিশুটির মা বারবার কড়া নাড়ছিলেন, তখন ভেতরে ঘটনাটি ঘটছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মূল অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তা করতে তার স্ত্রী দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ রাখেন।

 

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঘটনার পেছনে বিকৃত মানসিকতার প্রভাব থাকতে পারে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এরপর আলামত গোপন করতে মরদেহ বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও পুলিশ সন্দেহ করছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে।

 

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং তদন্ত দ্রুত শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।