বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০২:৩৯:২১ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

এক রাতের বৃষ্টিতে ভেসে গেল কৃষকের স্বপ্ন, হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানি

এক রাতের বৃষ্টিতে ভেসে গেল কৃষকের স্বপ্ন, হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

“এক রাতের বৃষ্টিতেই সব আশা-ভরসা ভেসে গেছে। পরিবার নিয়ে সারা বছর কী খাব, জমির মালিককে কী দেব—এই চিন্তায় দিন-রাত চোখের পানি থামছে না।” কথাগুলো বলছিলেন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের নিদনপুর গ্রামের কৃষক শহর উল্লাহ (৪০)।

 

এক রাতের বৃষ্টিতে ভেসে গেল কৃষকের স্বপ্ন, হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানি


 

তিনি জানান, চুক্তিভিত্তিক (বর্গা) ১৫ বিঘা জমি নিয়ে ঋণ করে হাইব্রিড জাতের বোরো ধান চাষ করেছিলেন। এ বছর ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু মাত্র দুই বিঘা জমির ধান কাটতে পেরেছিলেন। এর মধ্যেই আকস্মিক ভারী বৃষ্টিতে তার পুরো ক্ষেত বুকসমান পানিতে তলিয়ে যায়।
 

শুধু শহর উল্লাহ নন, একই অবস্থা কাউয়াদীঘি হাওরপারের মেদিনীমহল, নিদনপুর, ধুলিজোড়া, জামুয়া ও কেওলাসহ আশপাশের গ্রামের হাজারো কৃষকের। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার বিঘা জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
 

ফতেপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামের কৃষক সুজন মিয়া জানান, উলাউলি, মাটিগোড়া ও ফাটাশিঙা বিল এলাকায় প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে চুক্তিভিত্তিক চাষ করেছিলেন তিনি। শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ইতোমধ্যে ৫-৬ বিঘা ধান কাটা হলেও এক রাতের বৃষ্টিতে বাকি ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি নামলে কিছু ধান কাটা সম্ভব হতে পারে, নইলে সব পচে যাবে।”
 

কৃষকদের মতে, মনু প্রকল্প এলাকার কাশিমপুর পাম্প হাউসের আটটি মেশিন দিয়ে টানা সেচ দেওয়া হলে দ্রুত পানি নামানো সম্ভব। তবে বিদ্যুৎ সমস্যা ও বিভিন্ন খাল-বিল দিয়ে নতুন করে পানি ঢোকায় পানি নামতে বিলম্ব হচ্ছে।
 

ফতেপুর ইউনিয়নের মোকামবাজার এলাকার কৃষক শামসুউদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বুরবুরিয়া বিলসহ আশপাশের নালা-খাল খনন না করায় ভরাট হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই হাওরের উঁচু জমিতেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
 

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, “গত দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ সংকট না থাকায় কাশিমপুর পাম্পগুলো সচল রয়েছে। তবে বর্তমানে মনু প্রকল্প এলাকায় পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি।”
 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলায় চলতি মৌসুমে ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় ৩০ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে, যা মোটের ৮২.৫ শতাংশ। নন-হাওর এলাকায় ৮ হাজার ৬০ হেক্টর জমির ফসল কাটা হয়েছে, যা প্রায় ২৩ শতাংশ। সার্বিকভাবে কর্তনের হার ৪৯ শতাংশ।
 

সরকারি হিসাবে ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন হাওরে ১ হাজার ১৫০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে এবং ৬৯০ হেক্টর জমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৮ হাজার ৫০টি কৃষক পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি—প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
 

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে আরও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে।