মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:০৯:০৯ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

চুকনগর গণহত্যার ৫৫ বছর: সাক্ষী ভদ্রা নদী, ইতিহাসের নীরব অধ্যায়

চুকনগর গণহত্যার ৫৫ বছর: সাক্ষী ভদ্রা নদী, ইতিহাসের নীরব অধ্যায়

অনলাইন ডেস্ক

 

ডুমুরিয়া (খুলনা), ২০ মে — বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ভয়াবহতম ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত চুকনগর গণহত্যার ৫৫তম বার্ষিকী আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজার এলাকায় সংঘটিত হয় এক নজিরবিহীন হত্যাযজ্ঞ, যার সাক্ষী হয়ে আছে পাশ দিয়ে প্রবাহিত ভদ্রা নদী।
 

‘জেনোসাইড’ শব্দটির উৎপত্তি গ্রিক “জেনোস” (জাতি/উপজাতি) এবং ল্যাটিন “সাইড” (হত্যা) থেকে। ১৯৪৪ সালে আইনজীবী রাফায়েল ল্যামকিন প্রথম শব্দটি ব্যবহার করেন। আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো জাতি, গোষ্ঠী বা ধর্মীয় সম্প্রদায়কে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসের উদ্দেশ্যে সংঘটিত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে জেনোসাইড বলা হয়।
 

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশজুড়ে একাধিক গণহত্যা সংঘটিত হয়। একই বছরের ২৫ মার্চ ঢাকায় “অপারেশন সার্চলাইট” শুরুর পর সারাদেশে দমন-পীড়ন ও গণহত্যা ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে প্রাণ বাঁচাতে বহু মানুষ সীমান্তের দিকে যাত্রা করে চুকনগর এলাকায় আশ্রয় নেয়।
 

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, খুলনা, যশোর, ফরিদপুর ও বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চল থেকে আসা হাজারো শরণার্থী চুকনগর বাজার ও ভদ্রা নদীর তীরে অবস্থান করছিলেন সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষায়। ২০ মে সকালে পাকিস্তানি সেনারা সেখানে অভিযান চালিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায়।
 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হন। নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে—কারও মতে প্রায় ১০ হাজার, কারও মতে ২০ থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত।
 

হামলার পর বিপুল সংখ্যক মরদেহ সৎকারের সুযোগ না থাকায় স্থানীয়রা অনেক লাশ ভদ্রা নদীতে ভাসিয়ে দেন। জোয়ার-ভাটার টানে এসব মরদেহ দীর্ঘ সময় নদীপথে ভেসে থাকার কথাও বিভিন্ন বর্ণনায় উঠে এসেছে।
 

চুকনগর গণহত্যাকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ও স্বল্প সময়ে সংঘটিত বৃহৎ হত্যাযজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করেন গবেষকরা। তবে আন্তর্জাতিক পরিসরে এই ঘটনার যথাযথ স্বীকৃতি এখনও পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট মহল দাবি করে থাকে।
 

চুকনগর গণহত্যা দিবসে শহীদদের স্মরণে স্থানীয়ভাবে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা এই ঘটনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
 

চুকনগরের ভদ্রা নদী আজও নীরব সাক্ষী হয়ে বহন করছে সেই ভয়াবহ দিনের স্মৃতি।

সূত্র: সমকাল
হিলাল ফয়েজী: প্রকৌশলী ও কলাম লেখক