মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০১:০৫:৪৫ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• পটিয়ায় আবারও অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পুলিশ হেফাজতে •       • চার দিনের সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান •       • নরসিংদীতে বাসার গ্রিল কেটে ৫০ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি •       • কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি টুটুল গ্রেপ্তার •       • মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: ধর্মমন্ত্রী •       • বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর অনশন •       • মাদারগঞ্জে গাছে মরিচ আসতেই অজানা মড়ক: লোকসানের মুখে কৃষকরা, দেখা মেলেনি কৃষি কর্মকর্তার •       • মুরাদনগরে সাবেক মেম্বারের বসতঘরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি •       • রাজধানীতে বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৩৪, মামলা ৩৭ •       • মুরাদনগরে ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি হোসেন গ্রেফতার •

জামিনে মুক্ত হয়ে ১৬ বছর পর বাড়ি ফিরলেন মানসিক ভারসাম্যহীন ফজলু

জামিনে মুক্ত হয়ে ১৬ বছর পর বাড়ি ফিরলেন মানসিক ভারসাম্যহীন ফজলু

ঢাকা প্রেস
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-


 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুঠি গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ফজলুর রহমান।

 

জামিনে মুক্ত হয়ে ১৬ বছর পর বাড়ি ফিরলেন মানসিক ভারসাম্যহীন ফজলু


 

তার পিতার নাম মৃত শাহার আলী। দেশ সেবার ব্রত নিয়ে যোগ দেন বাংলাদেশ রাইফেলস এ। যৌবনের দিনগুলো কেটেছে দেশের সীমান্ত রক্ষায় চৌকশ সিপাহি হিসেবে। সিপাহি থেকে লেন্সনায়েক পদে পদন্নতি পেয়েছিলেন তিনি। তার কর্মস্থল বিডিআর হেডকোয়ার্টার পিলখানায় থাকায় ফেঁসে যায় ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া বিডিয়ার হত্যাকান্ডের ঘটনার বিষ্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায়। প্রহসনের বিচারে ১৬ বছর কারাভোগ করে সদ্য জামিন পান তিনি। গত ২৩ জানুয়ারি কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ২৪ জানুয়ারি ভারসাম্যহীন অবস্থায় তার নিজ বাড়িতে ফিরেছেন ফজলুর রহমান। এসময় এক হৃদয় বিদারক ঘটনা সৃষ্টি হয়। দলে দলে তাকে দেখতে আসে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও গ্রামবাসী। এখন মুক্ত হলেও ফজলুর রহমান কিছুটা মানষিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন।।স্বাভাবিক কথা বলতেও সমস‍্যা হচ্ছে তার। ৭ ভাই বোনের মধ‍্যে ফজলুর ৩য়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মুক্ত বাতাসে স্বামীকে ফিরে পেয়েও স্বামীর শাররীক অবস্থা আর চাকরি না থাকায় সামনের দিনগুলো কিভাবে চলবে এ নিয়ে শঙ্কায় তার স্ত্রী।
 

কারাভোগের ১৬ বছরে তিনি হারিয়েছেন প্রিয় মা-বাবা, বোনসহ ৯ জন নিকটাত্মীয়। বিনা দোষে জেল, প্রিয়জনদের হারিয়ে মানষিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন তিনি। অনেকে তার সাথে দেখা করতে আসলে নির্বাক তাকিয়ে থাকছেন তিনি। দীর্ঘ ১৬ বছর অপেক্ষার পর স্বামীকে কাছে পেয়েও দু:শ্চিন্তা কাটছে না স্ত্রী রাশেদা খাতুনের। ১৬ বছর অসহনিয় দুঃখ, কষ্ট আর গ্লানি নিয়ে চলতে হয়েছে পরিবারের সদস্যদের। এমনকি কারাগারে দেখতে পর্যন্ত যেতে পারেননি তারা।
 

আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাশেদা। তিনি জানান, ১৬টি বছর সমাজের নানা সমালোচনা সহ্য করে খেয়ে না খেয়ে স্বামীর জন্য অপেক্ষা করেছি। নিজের সন্তান না থাকায় ননদের সন্তানকে নিয়ে মানুষ করেছি। ছোট থেকেই সেই মেয়ে তার বাবাকে (ফজলুর রহমান) খুঁজেছে, আমি কোনো উত্তর দিতে পারি নাই। এখন স্বামী ফিরে আসলেও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। অনেককে চিনতে পারছে আবার অনেককে চিনতে পারছে না। আবোল তাবল বলছে। আমি এখন কী করবো, কোথায় যাবো।
 

ফজলুর রহমানের বড় ভাই ছামাদ আলী বলেন, সংসারে অভাব অনটন থাকায় ফজলুর রহমানের লেখাপড়া বন্ধ করে বিডআরে পাঠাই। সে খুব ভালো ছিলো, ছোট দুই ভাইকে তার অনুপ্রেরণায় সেনাবাহীনিতে দেই। ফজলুর রহমান দেশের জন্য কাজ করেছে। হঠাৎ কী থেকে কী হয়ে গেল বুঝতে পারিনাই। ১৬ বছর ভাই কারাগারে ছিলো আমরা তাকে দেখতে পর্যন্ত যেতে পারি নাই। মানুষ আমাদের ঘৃণার চোখে দেখেছে। এই কয়েক বছরে আমাদের বাবা-মা, এক বোনসহ ৯ জন নিকটাত্মীয় মারা গেছে; কিন্তু ও দেখতে পারে নাই।
 

ছোট ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ইউসুফ আলী জানান, বড় ভাই ফজলুর রহমানের অনুপ্রেণায় আমরা দুই ভাই সেনাবাহীনিতে যোগ দেই। সেই পরিবারের সদস্য হয়েও আমার ভাইকে বিনা দোষে ১৬ বছর কারাভোগ করতে হলো। ১৯ তারিখের যে জাজমেন্ট ছিলো সেটাতে আমরা খুশি। আমাদের ভাইকে ফিরে পেয়েছি। তবে ভাইয়ের চাকরি নাই। এখন অসুস্থ। কিভাবে তার সংসার চলবে তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা আছে। সরকারের কাছে তার চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানাই।
 

স্হানীয় আনিছুর রহমান ও তাসলিমা খাতুন জানান, ১৬ বছর এই পরিবারের উপর দিয়ে অনেক দুঃখ কষ্ট গেছে। এখন ফজলুর ভাই ফিরে আসলেও রোগে শোকে আক্রান্ত। তার চিকিৎসা দরকার।সরকারকে তার চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন করতে হবে।
 

ফজলুর রহমান বলেন, এ মামলার সাথে কোন সংশি­ষ্ঠতা ছিলো না বলে মুক্ত হয়েছেন তিনি। ১৬ বছরে বাবা- মা, বোন মারা গেছেন, ২ ফুফু মারা গেছেন, জ্যাঠা-মামাসহ আরোও কয়েকজন নিকট আত্মীয় মারা গেছেন তাদেরও দেখতে পারি নাই। তাদের তো আর ফিরে পাব না। তাদের না দেখার কষ্ট নিয়েই থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমার চাকরিটাই ছিলো একমাত্র সম্বল । এখন তো চাকরিটাও নেই। সরকারের কাছে দাবি আমাদের পুনর্বাসন করুক। সরকার চাইলে এটা করতে পারে। পুনর্বাসন হলে আমার আর চাওয়ার কিছু নাই।