ডেস্ক নিউজ-ঢাকা প্রেস
প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার রাজধানীর তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির প্রধান জিৎ ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমান। তাঁর ভাগনে প্রীতম বিশ্বাস ওরফে অনিক শেখ এবং ভাগনের স্ত্রী সাবরিন কবির প্রেমা ওরফে নেহাকে ব্যবহার করে তিনি এ ধরনের প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিবির ওয়ারী বিভাগের অভিযানে গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন অর্থজীৎ ভক্ত ওরফে সিদ্ধার্থ এবং সাদিয়া ইয়াসমিন ওরফে মাহি। তাঁদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন, তিনটি ফাঁকা চেক ও একটি টর্চার বেল্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিস্তারিত জানাতে রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম চক্রটির প্রতারণার কৌশল তুলে ধরেন।
তিনি জানান, চক্রটির নারী সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক ব্যবসায়ীসহ বিত্তবান পুরুষদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে কৌশলে তাঁদের নির্ধারিত বাসা বা হোটেলকক্ষে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে চক্রটির পুরুষ সদস্যরা ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় ভুক্তভোগীদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সেগুলো প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করা হতো। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একবার অর্থ নেওয়ার পরও ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একই ব্যক্তির কাছে পুনরায় টাকা দাবি করত চক্রটি।
ডিবিপ্রধান আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে চক্রটির সদস্যরা ঘন ঘন বাসা ও আস্তানা পরিবর্তন করতেন। তাঁরা ভুয়া নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে খোলা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন। গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করার পর তুরাগ এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
এ ধরনের প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইল থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। একই সঙ্গে কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।







