জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কার্যকর কর আরোপের মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে অর্থমন্ত্রী জনাব আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপিকে সম্প্রতি ৩৪ জন মাননীয় সংসদ সদস্য ডিও লেটার প্রদান করেছেন।
সংসদ সদস্যরা তাদের ডিও লেটারে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার আশঙ্কাজনক এবং এটি হৃদরোগ, ক্যানসার ও স্ট্রোকের মতো মারাত্মক রোগ বাড়াচ্ছে। তামাক ব্যবহারজনিত রোগে (হৃদরোগ, ক্যানসার, স্ট্রোক ইত্যাদি) বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করে (টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৩)।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি হয়েছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। তামাকের বর্তমান মূল্য কাঠামো অত্যন্ত কম হওয়ায় তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এগুলো খুব সহজেই সহজলভ্য হয়ে উঠছে। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যের দাম ও কর কাঠামো সংস্কার করা জরুরি।
এই লক্ষ্যে সিগারেটের ক্ষেত্রে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার মূল্য ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরের মূল্য ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের মূল্য ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়।
এছাড়া ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকার বিড়ির খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ, প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৬০ টাকা এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়।
ডিও লেটারে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে আশা করা যায় কেবল সিগারেট খাত থেকেই প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে, যা গত অর্থবছরে পাওয়া রাজস্বের দ্বিগুণ।
একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং প্রায় তিন লাখ ৭২ হাজার তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে।
অর্থাৎ, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে স্বাস্থ্য সুরক্ষাও নিশ্চিত হবে- যা স্পষ্টভাবেই সরকার ও জনগণ উভয়ের জন্যই অত্যন্ত লাভজনক।







