বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০২:৩৯:৫৪ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, ব্যাহত সেবা

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, ব্যাহত সেবা

সিরাজুল ইসলাম রতন, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:


 

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, ব্যাহত সেবা




গাইবান্ধার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পলাশবাড়ী উপজেলায় প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবার প্রধান ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে নানা সংকটে জর্জরিত। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটিতে চিকিৎসক সংকটসহ অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, ব্যাহত সেবা — ছবি ২


 

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৩১ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা হাসপাতালটি পরবর্তীতে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৯টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও সেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই।
 

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সালাউদ্দিন আহমেদ খান জানান, হাসপাতাল ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪০ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১২ জন। এর মধ্যে গাইনি, এনেস্থেসিয়া ও ডেন্টালসহ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ এবং ৭ জন মেডিকেল অফিসার রয়েছেন। ফলে ২৮টি চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে, যার মধ্যে ৮ জন বিশেষজ্ঞ ও ২০ জন মেডিকেল অফিসার।
 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে সার্জারি, মেডিসিন, নাক-কান-গলা, চর্মরোগ, হৃদরোগ, চক্ষু, অর্থোপেডিক ও শিশুরোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে।
 

হাসপাতালে জনবল সংকট শুধু চিকিৎসকেই সীমাবদ্ধ নয়। ৩৫ জন নার্সের মধ্যে কর্মরত আছেন ৩২ জন। এছাড়া পরিচ্ছন্নতা কর্মীর ৫টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ২ জন, ফলে হাসপাতাল এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ব্যাহত হচ্ছে।
 

অবকাঠামোগত সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে একটি। এক্স-রে মেশিন থাকলেও ফিল্মের অভাবে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ডেন্টাল চিকিৎসক থাকলেও প্রয়োজনীয় চেয়ার না থাকায় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়।
 

হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টারগুলোর বেশিরভাগই জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী। ইতোমধ্যে তিনটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে চাহিদা পাঠানো হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
 

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ইশতিয়াক আমিন অলিভ জানান, বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় হাসপাতালে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটে এবং চিকিৎসক-নার্সসহ কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
 

এছাড়া উপজেলার ৩৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন ও আসবাবপত্রও বেহাল অবস্থায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
 

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মো. নজরুল ইসলাম লেবু হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে এলাকা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
 

সচেতন মহলের মতে, স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকলেও তার সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
 

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।