মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০২:১১:১৫ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

দীর্ঘ জীবন পেতে সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপুন

দীর্ঘ জীবন পেতে সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপুন

‘ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন লিগ’ ২০০৫ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন ডে’ পালন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের দেশেও আজ দিনটি পালিত হচ্ছে। এ দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য হচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয়, এর ক্ষতিকর দিক, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সাধারণ জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘সঠিক রক্তচাপ পরিমাপ ও নিয়ন্ত্রণ, নিশ্চিত করে দীর্ঘ জীবন’। সঠিক পদ্ধতিতে পরিমাপ না করা হলে উচ্চ রক্তচাপ থাকা সত্ত্বেও তা ধরা না-ও পড়তে পারে। ফলে পরে হৃদরোগ, ব্রেনস্ট্রোক ও কিডনির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে ভুল পরিমাপের জন্য স্বাভাবিক রক্তচাপকেও উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে নির্ণয় করার ঝুঁকি থাকে।

উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) কী?

সাধারণভাবে রক্তচাপ ১৪০/৯০ (মিলিমিটার পারদ)-এর বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে ধরা হয়। তবে রক্তচাপ কত হলে চিকিৎসা নিতে হবে বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে হবে তা নির্ভর করে হৃদরোগের ঝুঁকির মাত্রা বাড়ায় এমন আরো রোগ (ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির উচ্চমাত্রা) আছে কি না তার ওপর।

প্রি হাইপারটেনশন কী?

রক্তচাপ যখন ১২০-১৩৯/৮০-৮৯ (মিলিমিটার পারদ চাপ) হয় তখন তাকে প্রি-হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের পূর্বাবস্থা হিসেবে ধরা হয়। প্রি-হাইপারটেনশন নির্ণয় করা গেলে জীবনাচারণে কিছু সহজ পরিবর্তনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা যায়।

উচ্চ রক্তচাপের কারণ

৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো নির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায় না। তবে কিছু জেনেটিক (জিনগত) গঠন, রক্তনালির বিশেষ বৈশিষ্ট্য, খাদ্যে লবণের পরিমাণ, শরীরের ওজন, শরীরচর্চার অভাব, মানসিক চাপ ইত্যাদি উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। বাকি ৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে কিডনি রোগ, হরমোনজনিত সমস্যা এবং কোনো কোনো ওষুধের প্রভাবেও উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। কারণ নির্ণয় করতে পারলে তা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা যেতে পারে।

প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায়


আন্তর্জাতিক হাইপারটেনশন সোসাইটির মতে, আটটি সহজ নিয়ম অনুসরণ করে সহজে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এগুলো হলো-

* নিয়মিত সঠিকভাবে রক্তচাপ পরিমাপ করা

* পরিমিত পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ

* মানসিক চাপ কমানো

* শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা

* মদ্যপান নিয়ন্ত্রণ

* খাদ্যে লবণের পরিমাণ কমানো

* নিয়মিত শরীরচর্চা

* নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

২০২২ সালের এক গবেষণায় জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের একজনের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। দুঃখের বিষয় হলো, চিকিৎসা দূরে থাক, তাদের মধ্যে অর্ধেক মানুষ জানেই না যে তাদের এটা আছে। তাই উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার বিকল্প নাই।

পরামর্শ দিয়েছেন

ডা. পংকজ কান্তি দত্ত
সহকারী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা।