সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৪:৪৩:০২ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড: আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কোন পথে

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড: আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কোন পথে

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রম শুরু করতে আওয়ামী লীগ সরকার ২০১০ সালে গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেই ট্রাইব্যুনালেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
 

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই রায়ের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে কী প্রভাব পড়বে? এখনও দলটির প্রধান শেখ হাসিনা—তাঁর রাজনৈতিক পরিণতি কী হতে পারে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
 

গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর (প্রত্যর্পণ) দাবি জানিয়ে আসছে। আদালত অবমাননার মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পরও তাঁকে প্রত্যর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে ভারত তার কোনো উত্তর দেয়নি।
 

বিবিসি বাংলা বিভাগের সম্পাদক মীর সাব্বির বিশ্লেষণে লিখেছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচিত কোনো সরকার ক্ষমতায় এলে যদি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে পুনরায় চাপ সৃষ্টি করে, অথবা ভারতে অবস্থান করে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার প্রচেষ্টা চালায়—তাহলে সেই অনুরোধ উপেক্ষা করা ভারতের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
 

রায় ঘোষণার আগেই আদালত গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যার প্রতিবাদ জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
 

সরকার পরিবর্তনের পর থেকে আওয়ামী লীগ কার্যত রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে প্রায় সরে গেছে। দলের প্রধান নেতাদের অনেকেই এখন নির্বাসিত, কেউ ভারতে অবস্থান করছেন আবার কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন।
 

এই রায়ের পর যদি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা দলের কার্যক্রমে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তাহলে দলটি আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে। যদিও দলীয় সূত্র দাবি করছে—নেতৃত্ব নিয়ে দলে কোনো বিরোধ নেই। তবে দেখা যাচ্ছে, ক্রমবর্ধমান আইনি প্রতিবন্ধকতা এবং প্রত্যর্পণ ইস্যুতে কূটনৈতিক চাপের কারণে আগামী দিনে আওয়ামী লীগকে নতুন কৌশল নিতে বাধ্য হতে পারে।