সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৬:৪৭:২০ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

এক ভরি সোনার অলংকারের দাম ছাড়াল ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা

এক ভরি সোনার অলংকারের দাম ছাড়াল ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা

ডেস্ক নিউজ-ঢাকা প্রেস

 

 

উচ্চমূল্যে ধস নেমেছে বিক্রিতে, অলংকার বাজারে ক্রেতাশূন্যতা.......…

ঢাকা: বিশ্ববাজারে সোনার লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশের স্বর্ণবাজারেও। ফলে এক ভরি সোনার অলংকার কিনতে এখন ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে তিন লাখ টাকারও বেশি। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অলংকার বাজারে আগের মতো ক্রেতার ভিড় আর দেখা যাচ্ছে না।

 

বর্তমানে ২২ ক্যারেট সোনার সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করে এক ভরি সোনার অলংকারের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৬১ টাকা। কোনো কোনো দোকানে মজুরিতে সামান্য ছাড় দেওয়া হলেও ৩ লাখ টাকার নিচে এক ভরি অলংকার কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

 

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানান, অতিরিক্ত দামের কারণে এখন আর শখ করে কেউ সোনার অলংকার কিনছেন না। যারা আসছেন, তারা মূলত বিয়ে, সন্তান জন্ম বা পারিবারিক বিশেষ অনুষ্ঠানের মতো সামাজিক বাধ্যবাধকতার কারণেই সীমিত পরিসরে কেনাকাটা করছেন। আগে যেখানে একটি বিয়েতে কয়েক ভরি সোনা কেনা হতো, সেখানে এখন অনেক পরিবার আধা ভরি বা এক ভরিতেই সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

 

রাজধানীর একটি অলংকার দোকানের স্বত্বাধিকারী জানান, আগে প্রতিদিন নিয়মিত বিক্রি থাকলেও এখন অনেক সময় সারাদিন দোকান খোলা রেখেও একটি অলংকার বিক্রি হয় না। অধিকাংশ ক্রেতাই দাম শুনেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

 

ব্যবসায়ীদের দাবি, করোনা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে সোনার অলংকার বিক্রি প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি, ডলারের অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশীয় ভ্যাট ও মজুরি যুক্ত হওয়ায় সোনার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

 

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাদল চন্দ্র রায় বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বড় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন। অনেক দেশ ডলার রিজার্ভ কমিয়ে সোনা মজুত করায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও বাড়ছে, যার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ছে।

 

এই মন্দার প্রভাব পড়েছে সোনা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের ওপরও। কাজের অভাবে অনেক কারিগর অলস সময় পার করছেন, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন।

 

বর্তমানে বাজারে ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম নির্ধারিত রয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা। ২১ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা।

 

এই দামের সঙ্গে ভ্যাট ও মজুরি যোগ হওয়ায় সোনার অলংকার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।