মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৮:২১:১১ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

শূন্যরেখায় ৭৮ ঘণ্টা ধরে দুই শিশুকে নিয়ে মানবেতর জীবন, বিপাকে এক পরিবার

শূন্যরেখায় ৭৮ ঘণ্টা ধরে দুই শিশুকে নিয়ে মানবেতর জীবন, বিপাকে এক পরিবার

মো. হারুন অর রশিদ, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
 

 

 


কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই শিশু সন্তানকে বুকে আগলে টানা ৭৮ ঘণ্টা ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সুমি আক্তার (২৮)। রোববার ভোর থেকে স্বামী বিল্লাল হোসেন এবং দুই সন্তান—চার বছরের ফাতেমা ও পাঁচ মাস বয়সী সুমাইয়াকে নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন তিনি।
 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাজের সন্ধানে কয়েকদিন আগে পরিবারটি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। তবে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের আটক করে। পরে বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিচয়পত্রের অভাবে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে দুই দেশের মাঝামাঝি শূন্যরেখায় আটকা পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
 

পরিবারটির বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কংশেরকুল গ্রামে। প্রায় ছয় বছর আগে সুমি আক্তারের সঙ্গে বিল্লাল হোসেনের বিয়ে হয়।
 

মঙ্গলবার বিকেলে নিরাপদ দূরত্ব থেকে কথা হলে সুমি আক্তার বলেন, “সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে বাচ্চাদের জন্য। প্রচণ্ড রোদে থাকতে হচ্ছে, আবার রাতে বৃষ্টিতেও ভিজতে হচ্ছে। সামনে কী হবে, কিছুই জানি না।”
 

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোরে গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে মোট নয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা প্রতিহত করা হয়। এরপর থেকেই তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
 

সীমান্তে আটকে পড়া পরিবারটির জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ছাতা সরবরাহ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
 

এ বিষয়ে জামালপুর-৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, “বিষয়টির সমাধানে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।”
 

সীমান্তে আটকে পড়া নারী ও শিশুদের এই পরিস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে মানবিক সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।