মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৭:৩৬:০৮ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। আগামী ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া এবং ২৩-২৬ জুন চীন সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই দুই সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

 

মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার পুনরুজ্জীবন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধতা এবং সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে।

 

তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর। চার দিনের এই সফরে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, স্বল্পসুদে ঋণ (সফট লোন), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অর্থনৈতিক অঞ্চল, তিস্তা প্রকল্প, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই), রোহিঙ্গা সংকট এবং মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

 

সূত্র জানায়, সফর উপলক্ষে ১৪ থেকে ১৬টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ২৫ জুন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের বিনিয়োগ সম্মেলন, যেখানে চীনা উদ্যোক্তাদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে।

 

চীন বর্তমানে বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশের শিল্প উৎপাদন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল সরবরাহে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশ কোনো একক শক্তির ওপর নির্ভর না করে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখতে চায়। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

 

এদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং মিয়ানমার পরিস্থিতিতে বেইজিংয়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করবে ঢাকা।

 

কূটনৈতিক মহলের ধারণা, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে না, বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।