সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৯:০৩:২১ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

মাদারগঞ্জে সাড়ে ৩ কোটি টাকার সেতুর মুখ ভরাটের অভিযোগ, পানির প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

মাদারগঞ্জে সাড়ে ৩ কোটি টাকার সেতুর মুখ ভরাটের অভিযোগ, পানির প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

মো. আলমগীর হোসাইন হৃদয়, জামালপুর প্রতিনিধি:


 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্মিত প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি সেতুর এক পাশ বালু ও মাটি দিয়ে ভরাট করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে।
 

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঝাড়কাটা বাজারের উত্তর পাশে ২০২৫ সালে প্রায় ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৯০ হাজার ৬৯৪ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুর নিচ দিয়ে পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে বৃষ্টির ও বন্যার পানি প্রবাহিত হয়ে আশপাশের কৃষিজমির পানি নিষ্কাশন হতো। তবে কয়েক মাস ধরে সেতুর পূর্ব পাশে বালু ও মাটি ফেলে জমি ভরাট করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

মাদারগঞ্জে সাড়ে ৩ কোটি টাকার সেতুর মুখ ভরাটের অভিযোগ, পানির প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা


 

অভিযোগে বলা হয়েছে, আকরামুল কবির নামে এক ব্যক্তি সেতুর মুখ ভরাট করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আলমগীর কবিরের ছোট ভাই এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এ কাজ করছেন। ফলে বর্ষা ও বন্যার সময় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী ও কৃষকরা।
 

স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই সেতুর মুখ ভরাট করে দেওয়ায় সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামোর কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তারা দ্রুত ভরাটকৃত অংশ অপসারণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
 

অভিযোগের বিষয়ে আকরামুল কবির বলেন, “আমরা আমাদের নিজস্ব জমিতে মাটি ভরাট করেছি। সেখানে একটি খামার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”
 

উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আলমগীর কবির বলেন, “সেতুটির নিচ দিয়ে সাধারণ সময়ে তেমন পানি প্রবাহিত হয় না। এটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। আমার ভাই তার নিজস্ব জমিতে খামার করার জন্য মাটি ভরাট করেছে। তবে বন্যার সময় যাতে পানি চলাচলে সমস্যা না হয়, সে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”
 

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে। সরকারি স্থাপনা বা পানির স্বাভাবিক প্রবাহে কেউ বাধা সৃষ্টি করে থাকলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।