মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৩:৪৫:৪২ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• হাতিয়ায় ছাত্রশিবিরের জুলাই শহীদ স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট সম্পন্ন: চ্যাম্পিয়ন তমরুদ্দি হাইস্কুল •       • কীর্তিমানের আলো ও মেধার সম্মান: রাজধানীতে চট্টগ্রাম সমিতির মহা-মিলনমেলা •       • বাঙ্গরা উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রথম মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত: পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠার আহ্বান •       • কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০, ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত •       • অভিযানেও থামছে না অবৈধ অটোরিকশা, ডাম্পিং এড়াতে আরও বেপরোয়া চালকরা •       • মুরাদনগরে ২৮ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার •       • অর্থাভাবে থমকে থাকা চোখে আলোর পরশ: মুরাদনগরে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন ৩০০ মানুষ •       • মুরাদনগর উপজেলার ১৫ নং পশ্চিম নবীপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রবীন-নবীনদের পছন্দের শীর্ষে ফারুক আহম্মেদ বাদশা •       • কক্সবাজারের ব্যবসায়ী ইয়াহিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১২ কোটি টাকার বেশি জরিমানা •       • যুবসমাজকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী •

জাদুশিল্পীদের ঈদ পুনর্মিলনী: ঐক্যের বন্ধনে একত্রিত এক স্বপ্নযাত্রা

জাদুশিল্পীদের ঈদ পুনর্মিলনী: ঐক্যের বন্ধনে একত্রিত এক স্বপ্নযাত্রা

ঢাকা প্রেস-নিউজ ডেস্ক:-


 

“জাদু শিল্পের উন্নয়নে আমরা সবাই এক”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির কনফারেন্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর ঈদ পুনর্মিলনী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খ্যাতিমান ও নবীন জাদুশিল্পীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পরিণত হয় এটি এক অভূতপূর্ব মিলনমেলায়।
 

এই আয়োজন ছিল কেবল আনন্দ বিনিময়ের উপলক্ষ নয়; বরং এটি হয়ে উঠেছিল জাদু শিল্পের ভবিষ্যৎ, সম্ভাবনা এবং দিকনির্দেশনা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা ও সংলাপের এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাদুশিল্পী শাহীন শাহ্, বাসেদ মাহমুদ, একে আজাদ, বদিউজ্জামান, স্বপন দিনার, অনিক, তৃষা, রবিউল, সোহেল, বিদেশ অধিকারী, সাদাত মামুন, সোহাগ খান, রাজ রানীসহ আরও অনেক বরেণ্য ও উদীয়মান শিল্পী।

জাদুশিল্পী ঐক্য কল্যাণ সংস্থা ও জাদুশিল্পী পরিষদের সভাপতি শাহীন শাহ্ বলেন,

“জাদু কেবল বিনোদন নয়—এটি আমাদের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। তরুণ প্রজন্মের মাঝে এর প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে আমরা সবাই মিলে কাজ করতে চাই।”

বাসেদ মাহমুদ বলেন,

“জাদু শিল্পে পেশাদারিত্ব ও সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হলে জাদুশিল্পীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। এই পুনর্মিলনী আমাদের সেই ঐক্যের অঙ্গীকার।”

একে আজাদ তার বক্তব্যে বলেন,

“বাংলাদেশে অনেক প্রতিভাবান তরুণ আছেন। যদি সঠিক প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া যায়, তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারবেন।”

স্বপন দিনার মনে করেন,

“নতুন প্রজন্মকে শুধু কৌশল নয়, বরং শিল্পবোধ, সততা এবং দায়িত্ববোধ শেখাতে হবে। তাহলেই তৈরি হবে প্রকৃত শিল্পী।”

অনুষ্ঠানে ছিল এক জমকালো জাদু প্রদর্শনী, অভিজ্ঞতা বিনিময়, মতামত প্রকাশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। তরুণ জাদুশিল্পীরা একটি ‘ম্যাজিক স্কুল’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান—যেখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও গবেষণার সুযোগ থাকবে।

সাদাত মামুন বলেন,

“অনেকে এখনো জাদুকে শুধু ভেলকি মনে করেন। অথচ এর পেছনে থাকে কঠোর পরিশ্রম, সৃজনশীলতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। এই ভুল ধারণা দূর করতে আমাদেরই কাজ করতে হবে।”

সোহাগ খান বলেন,

“জাদু শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সংশ্লিষ্টদের জন্য নীতিগত সুরক্ষা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।”

পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল প্রাণের উচ্ছ্বাস, গভীর চিন্তাভাবনা, এবং এক অটুট বার্তা—জাদু শিল্প একক কারও নয়, এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা, একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন।
 

অতিথিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একদিন জাদু শিল্প হয়ে উঠবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গৌরবময় স্তম্ভ।
 

ঈদের এই পুনর্মিলনী যেন রূপ নিয়েছিল এক ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনায়—যেখানে আবেগের সঙ্গে ছিল দায়বদ্ধতা আর প্রত্যয়ের দীপ্তি।
শেষে সবাই এক কণ্ঠে ঘোষণা করেন—
“জাদু শিল্পের উন্নয়নে আমরা সবাই এক!”