সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৪:৫১:৫৪ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• চার দিনের সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান •       • নরসিংদীতে বাসার গ্রিল কেটে ৫০ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি •       • কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি টুটুল গ্রেপ্তার •       • মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: ধর্মমন্ত্রী •       • বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর অনশন •       • মাদারগঞ্জে গাছে মরিচ আসতেই অজানা মড়ক: লোকসানের মুখে কৃষকরা, দেখা মেলেনি কৃষি কর্মকর্তার •       • মুরাদনগরে সাবেক মেম্বারের বসতঘরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি •       • রাজধানীতে বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৩৪, মামলা ৩৭ •       • মুরাদনগরে ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি হোসেন গ্রেফতার •       • আল্লামা হাশেমী শিক্ষা বৃত্তি অর্জন: একই মঞ্চে বাবার গৌরব ও মেয়ের জোড়া সাফল্য •

কুমিল্লায় এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তি ও জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

কুমিল্লায় এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তি ও জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা প্রতিনিধি:-

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা.সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন- এটি এম আজরুল ইসলামকে মিথ্যা মামলা,মিথ্যা সাক্ষী ও ভুয়া আদালতের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বিগত সরকার। দেশ ফ্যাসিস্টমুক্ত হওয়ার পর এটিএম আজহারের মুক্তি চেয়ে আন্দোলনে নামতে হয়েছে। এটি আমাদের চরম দুর্ভাগ্য।হয় এটিএম আজহারকে মুক্তি দিন, না হয় আপনারা বিদায় নিন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আমরাই বসিয়েছে। অথচ এই  সরকারের কারো কারো ভেতরের ভারতের প্রেতাত্মা ভর করেছে। নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি হয়েছে ভারতের কূটচালে। আমরা ভারতকে মানিনা। ভারতের আধিপত্যবাদ কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। বিগত দিনে ভারতের সাথে সম্পাদিত সব চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন অবিলম্বে এটিএম আজহারুলকে মুক্তি না দিলে কক্সবাজার থেকে দিনাজপুর সর্বত্র কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহালের ও দলের  সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল  এটিএম আজহারুল ইসলামের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে  দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচি  অংশ হিসাবে  কুমিল্লা মহানগরী জামায়াত আয়োজিত  বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে মিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতে আমির অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাহজাহান, উত্তর জেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল মতিন,মহানগরী নায়েবে আমির মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দিন,অধ্যাপক এ কে এম এমদাদুল হক মামুন,দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি ড. সৈয়দ সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী,উত্তর জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আলমগীর সরকার,সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি ইউসুফ ইসলাহী,কুমিল্লা মহানগরী শিবির সভাপতি হাছান আহমেদ প্রমুখ।


 

কুমিল্লায় এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তি ও জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ



সমাবেশ শেষে টাউন হল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
 

বিক্ষোভ মিছিলে আরও অংশগ্রহণ করেন মহানগর জামায়াতে সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল,মোশারফ হোসাইন,নাছির আহম্মেদ মোল্লা,দক্ষিন জেলা জামায়াতে সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান,
 

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জামায়াতের সাবেক ভারপ্রাপ্ত   সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম ১৩ বছরেরও অধিক সময় ধরে কারাগারে আটক রয়েছেন। তাঁকে বারবার রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি বেশ কয়েকবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে ন্যূনতম চিকিৎসা সেবাটুকুও দেয়া হয়নি। 

দেশবাসী আশা করেছিলো যে, চরম জুলুম-নির্যাতনের শিকার এটিএম আজহারুল ইসলাম স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশে মুক্তিলাভ করবেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ৬ মাস ৯ দিন অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও এটিএম আজহারুল ইসলামকে মুক্তি দেয়া হয়নি। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলের বিচারিক কার্যক্রমসমূহ সারা বিশ্বে বিতর্কিত, প্রশ্নবিদ্ধ ও প্রত্যাখ্যাত। স্বৈরাচারের আমলে গ্রেফতারকৃত এটিএম আজহারুল ইসলামকে কারাগারে আটক রাখা তার প্রতি চরম জুলুম ও অন্যায় ছাড়া আর কিছুই নয়। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে তাঁকে এখনও আটক রাখায় জাতি বিস্মিত ও হতবাক।

 

বিকাল ৩টায় সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই দুপুর ২টা থেকে মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে টাউন হল মাঠে সমবেত হন নেতা-কর্মীরা। ইসলামী ছাত্র শিবিরের বিপুল সংখ্যক সদস্যও এতে যোগ দেন। মুহূর্তেই পুরো এলাকা মিছিলের নগরীতে রূপ নেয়।