বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০২:৩৮:২৬ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• হাতিয়ায় ছাত্রশিবিরের জুলাই শহীদ স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট সম্পন্ন: চ্যাম্পিয়ন তমরুদ্দি হাইস্কুল •       • কীর্তিমানের আলো ও মেধার সম্মান: রাজধানীতে চট্টগ্রাম সমিতির মহা-মিলনমেলা •       • বাঙ্গরা উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রথম মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত: পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠার আহ্বান •       • কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০, ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত •       • অভিযানেও থামছে না অবৈধ অটোরিকশা, ডাম্পিং এড়াতে আরও বেপরোয়া চালকরা •       • মুরাদনগরে ২৮ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার •       • অর্থাভাবে থমকে থাকা চোখে আলোর পরশ: মুরাদনগরে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন ৩০০ মানুষ •       • মুরাদনগর উপজেলার ১৫ নং পশ্চিম নবীপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রবীন-নবীনদের পছন্দের শীর্ষে ফারুক আহম্মেদ বাদশা •       • কক্সবাজারের ব্যবসায়ী ইয়াহিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১২ কোটি টাকার বেশি জরিমানা •       • যুবসমাজকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী •

জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মেয়ে হত্যার অভিযোগে বাবা গ্রেফতার

জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মেয়ে হত্যার অভিযোগে বাবা গ্রেফতার

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-

 

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে জান্নাতি নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। মেয়েকে হত্যার অভিযোগে রবিবার (১১ মে) জান্নাতির বাবা জাহেদুলকে গ্রেফতার করেছে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ। একই সঙ্গে জান্নাতির মা মোর্শেদা ও বড় চাচি কহিনুর বেগমকে আটক করা হয়েছে।
 

কুড়িগ্রাম জেলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হাবিবুল্লাহ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জান্নাতির বাবা জাহেদুলের দেওয়া তথ্য মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন ওসি।
 

এর আগে গত শনিবার (১০ মে) সকালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের কাগজিপাড়া গ্রামে নিজ বসতবাড়ির পাশে কৃষিজমি থেকে জান্নাতির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় জান্নাতির চাচা খলিল বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
 

জান্নাতির পরিবারের দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন রাতের বেলা জান্নাতিকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে ফেলে রাখে। তবে তাদের এমন দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
 

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জান্নাতির বাবা জাহেদুল ও চাচা খলিলের সঙ্গে একই এলাকার মকবুল পাটোয়ারি গংয়ের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ ছাড়াও খলিল ও জাহেদুলের ছোট ভাই রফিকুলের সঙ্গেও জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলমান। এসব নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে মামলাও রয়েছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গরু-ছাগল চুরি, খড়ের গাদায় আগুন দেওয়াসহ পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।
 

এলাকার একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জাহেদুল ও তার বড় ভাই খলিল জমি নিয়ে বিরোধে তাদের ভাই রফিকুল ও তার স্ত্রী হালি বেগমকেও মারধর করেন। রফিকুল বাদী হয়ে মামলাও করেছেন। কিন্তু জাহেদুল ও খলিলের ভয়ে তারা কয়েক মাস এলাকাছাড়া ছিলেন। জাহেদুল ও খলিল প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ছোট ভাই রফিকুল ও তার স্ত্রীকে মারার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ হালি বেগমের।
 

হালি বেগম বলেন, ‘স্বামীর আপন ভাই খলিল, জাহেদুল ও একরামুলরা পিটিয়া আমার হাত-পা ভাঙি দিছে। স্বামীসহ আমাক মারার বুদ্ধি করছিল। আমাদেক মারি ফেলে মাইনষক ফাঁসাইবে। এটা জানার পর আমি বাড়ি ছাড়ি গেছিলাম।’
 

রফিকুল বলেন, ‘জাহেদুল খুব খারাপ লোক। খলিল আর একরামুল মিলিয়া আমাক মারিয়া পাটোয়ারিসহ খন্দকার গোষ্ঠিক ফাঁসার প্লান করছিল। ওরা আমাক পাইলে এক ঘণ্টার মধ্যে মারি ফেলাইবে। ওরা নিজের মেয়েক নিজে মারছে। এটার কোনও ভুল নাই। মাইনষেক ফাঁসার জন্যে মারি ফেলাইছে।’
 

আপন ভাইদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণ প্রশ্নে রফিকুল বলেন, ‘আমার পাঁচ বিঘা জমি ওরা আবাদ করতে দেয় না। আমি বন্ধক রাখছি। সেই বন্ধক নেওয়া লোকদেরও জমিতে নামতে দেয় না। এ নিয়ে আমাক ও আমার স্ত্রীক মারধর করি মারি ফেলাইতে ধরছে। আমি মামলাও করছি।’
 

জাহেদুলকে গ্রেফতারের খবরে এলাকাবাসীর অভিযোগ, জান্নাতিকে হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পেছনে শুধু জাহেদুল নয় তার বড় ভাই খলিলের প্রত্যক্ষ মদত থাকতে পারে। এলাকায় খলিলের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত রুহল আমিন ওরফে উকিল এবং আব্দুল কাদের নামে দুই প্রতিবেশী খলিল ও জাহেদুলকে সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকে। এ ঘটনায় তাদের কোনও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে এ নিয়ে নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করে কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
 

জান্নাতি হত্যাকান্ডের দিন তার চাচা খলিল প্রতিপক্ষের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, ‘আমরা হত্যাকারীদেরকে চিনি। তারা জান্নাতিকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারি ফেলছে।’
 

তবে জাহিদুল, তার স্ত্রী মোর্শেদা ও খলিলের স্ত্রী কহিনুরকে পুলিশ আটক করার পর থেকে খলিলের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তিনি পলাতক রয়েছেন বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।
 

কুড়িগ্রাম জেলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হাবিবল্লাহ বলেন, ‘তদন্তে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় জান্নাতির বাবা জাহেদুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়াও জান্নাতির মা ও চাচিকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর কারও সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। তদন্তের স্বার্থে এই  মুহূর্তে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।’