সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৬:০৩:০০ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

যুদ্ধের প্রভাবে এ বছর পণ্যের দাম ১৬% পর্যন্ত বাড়তে পারে

যুদ্ধের প্রভাবে এ বছর পণ্যের দাম ১৬% পর্যন্ত বাড়তে পারে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুতই। সর্বশেষ পূর্বাভাসে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক পণ্যমূল্য গড়ে প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত পণ্যবাজার বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি খাতের মূল্যবৃদ্ধিই এই চাপের মূল চালিকাশক্তি। তেল ও গ্যাসের দামে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতির ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। এতে এসব দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় শুধু জ্বালানি নয়, কৃষিপণ্য, ধাতু ও শিল্প কাঁচামালের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়ায় খাদ্যদ্রব্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। একই সঙ্গে সারের বাজারেও চাপ বাড়ছে, যা কৃষি উৎপাদনে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির গড় মূল্য এ বছর প্রায় এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৬ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, আর পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তা ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। আগে থেকেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা অর্থনীতিতে নতুন করে জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে পরিবহন, উৎপাদন ও নিত্যপণ্যের বাজারে। এতে সাধারণ মানুষের ব্যয় বাড়বে এবং ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানির দামের ওঠানামাই এখন বৈশ্বিক বাজারের মূল নির্ধারক হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘায়িত হলে শুধু পণ্যমূল্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ২০২৬ সাল বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি কঠিন সময় হয়ে উঠতে পারে, এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে সাম্প্রতিক এই পূর্বাভাস।