সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:৫০:৪১ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

মশার কয়েলের ধোঁয়ায় সৃষ্ট সমস্যা

মশার কয়েলের ধোঁয়ায় সৃষ্ট সমস্যা

মশার কামড় থেকে বিভিন্ন রকমের রোগ হতে পারে। তাই মশা তাড়ানোর জন্য অনেকেই কয়েল ব্যবহার করেন। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, টুলারোমিয়া, জাপানিজ এনকেফেলাইটিস, বার্মা ফরেস্ট ফিভারের মতো রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায় মশার কামড়ে। মশার কামড় থেকে যে রোগগুলো হয় তার ধারণা আমাদের থাকলেও, মশার কয়েল থেকে কী কী ক্ষতি হতে পারে, তা অনেকেই জানেন না।

সাম্প্রতিক একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে, মশার কয়েলে যে পরিমাণ রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, তা নির্ধারিত মাত্রার থেকে বেশি। মশার কয়েলে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান বাতাসের সঙ্গে মিশে যায়। সেগুলোই আমাদের নাকে ঢোকে। কয়েলে থাকা কিছু রাসায়নিক পদার্থ ত্বকের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এই সমস্যা সব থেকে বেশি হয় সদ্যোজাত শিশুদের। কারণ তাদের মধ্যে তখনও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো করে গড়ে ওঠে না।


কয়েলের প্রধান উপাদান হিসাবে থাকে পাইরোফ্রয়েড। এটি প্রাকৃতিক যৌগ পাইরোগ্রাম থেকে পাওয়া যায়। এর আসল সক্রিয় উপাদানটি হল কীটনাশক ডিডিটি বা পিন্ডেনের মতো ক্লোরিনেটেড হাইড্রোকার্বন, প্যারাফিনের মতো আরপ্যান ফসফরাস যৌগ ও কার্বন। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, একটি মশার কয়েল যে পরিমাণ ধোঁয়া উৎপন্ন করে, তা ১০০টি সিগারেটের ধোঁয়ার সমান। এর ফলে অনেক রকম স্নায়ু ঘটিত সমস্যা দেখা দিতে পারে । শুধু তাই নয়, মশার কয়েলের মারাত্মক রাসায়নিক উপাদান মহিলাদের প্রজনন ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। জেনে নিন মশার কয়েল থেকে হওয়া সমস্যাগুলো: 

 

শ্বাসকষ্টের সমস্যা
মশা তাড়ানোর কয়েল জ্বালালে যে ধোঁয়া বের হয় তার থেকে নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। এছাড়াও নাক জ্বালা, গলা ব্যথা, কাশির মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে ও অ্যাজমা রয়েছে, অথবা ঠান্ডার সমস্যা রয়েছে তারা অবশ্যই মশা তাড়ানোর কয়েল থেকে দূরে থাকুন। কয়েলের ধোঁয়া আপনার ফুসফুসের ওপরেও প্রভাব ফেলে। ফলে প্রাথমিকভাবে কাশির সমস্যার পাশাপাশি পরবর্তীকালে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারসিনোজিনস থাকে মশা তাড়ানোর কয়েলের মধ্যে। এর মাধ্যমেই ফুসফুসের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।

সেনসিটিভ স্কিনে হতে পারে সমস্যা
যাদের ত্বক খুব সেনসিটিভ তাদের ক্ষেত্রে মশা তাড়ানোর কয়েল থেকে ত্বকে অ্যালার্জি, র‍্যাশ, চালুকানি, লালভাব ইত্যাদি অস্বস্তিকর সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন ভারী ধাতব অর্থাৎ হেভি মেটাল-জাত উপকরণ থাকে কয়েলের মধ্যে। এই তালিকায় রয়েছে অ্যালুমিনিয়াম, ক্রোমিয়াম। এইসব ধাতব উপকরণ ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করে। ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মাথা ব্যথার সমস্যা
যাদের মাথা যন্ত্রণা হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তারা ঘরে কয়েল না রাখাই ভালো। বিশেষ করে খুব অল্পেই যাদের মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায় তারা মশা তাড়ানোর কয়েলের ধোঁয়া, গন্ধ কিছুই সহ্য করতে পারেন না। আর এই গন্ধ খুবই তীব্র হয়। অতএব মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে সাবধানে থাকুন। এমনিতেও ঘরে কয়েল জ্বালানো থাকলে ওই তীব্র গন্ধ ও ধোঁয়ায় একটা দমবন্ধ করা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়। বাড়িতে বাচ্চা এবং বয়স্ক মানুষ থাকলে কয়েল থেকে তাদের অবশ্যই দূরে রাখুন।