ফাতেমা আল-মাদ্রিদিয়া একজন মুসলিম নারী জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ। তিনি বিখ্যাত মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানী মাসলামা আল-মাদ্রিদির (মৃত্যু ১০০৮ খ্রি.) মেয়ে। একজন গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ ও অ্যাস্ট্রল্যাব প্রস্তুতকারক হিসেবে তিনি খ্যাতি লাভ করেছিলেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর ফাতেমার একাধিক মৌলিক গবেষণা ও রচনা আছে।
ফাতেমা মাদ্রিদিয়ার জন্ম মুসলিম স্পেনের কর্ডোভায়। তবে তাদের আদিনিবাস মাদ্রিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাকে মাদ্রিদিয়া বলা হয়। অবশ্য তার বাবা মাসলামার জন্ম মাদ্রিদে। তিনি উচ্চতর শিক্ষার জন্য কর্ডোভা যান এবং সেখানেই স্থায়ী হন। তাকে বলা হতো স্পেনের প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী। খলিফা হাকাম মুস্তানসারের শাসনামলে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ব্যক্তিত্ব।
জ্যোতির্বিজ্ঞানে মাসলামা বহুমুখী অবদান রাখেন। যেমন জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর টলেমির বই গ্রিক থেকে আরবি করেন, আল-ম্যাজেস্ট্রির ভাষান্তর ও সংশোধন করেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক খাওরিজমির সারণির উন্নয়ন করেন, ভূমি জরিপ ও ত্রিকোণমিতির কৌশল উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া তিনি একটি বিশ্বকোষ সম্পাদনা করেন এবং গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। আর এসব কাজে ফাতেমা ছিলেন তার বাবার অন্যতম সহযোগী। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন বাবার জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার সঙ্গী।

খ্রিস্টীয় দশম শতকে কর্ডোভা ছিল মুসলিম স্পেনের প্রধান জ্ঞানকেন্দ্র ও ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ নগরী। মুসলিম আমলে এখানে বিশালায়তন মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয় ও জ্ঞানকেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। তখন চার লাখের বেশি মানুষ বসবাস করত এই শহরে। গণিত, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যাসহ আধুনিক বিজ্ঞানের বহুমুখী চর্চা হতো কর্ডোভায়। ইউরোপ ও মুসলিম স্পেনের বহু জ্ঞানানুরাগী কর্ডোভায় জ্ঞানার্জনের জন্য আসত।
মধ্যযুগের মানুষের কাছে চাঁদ ও গ্রহ-নক্ষত্রগুলোর অবস্থান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এর ওপর ভিত্তি করে সময় গণনা, ইবাদতের সময় নির্ধারণ, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের সময়সূচি প্রণয়ন, সমুদ্রে নাবিকরা পথ নির্ণয় করত। তবে চাঁদ ও নক্ষত্রগুলোর অবস্থান নির্ণয় করা খুব সহজ ছিল না। গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায় এমন একটি অ্যাস্ট্রল্যাব তৈরি করেছিলেন ফাতেমা মাদ্রিদিয়া। জ্যোতির্বিদ্যা, ক্যালেন্ডার ও ত্রিকোণমিতির ওপর তার মৌলিক গবেষণা আছে। তার গবেষণাকাজগুলোকে একত্রে ‘কারেকশনস ফ্রম ফাতেমা’ বলা হয়।







