সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:৫৬:১৭ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

২৭তম বিসিএসে নিয়োগবঞ্চিত ১১৩৭ জনের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ

২৭তম বিসিএসে নিয়োগবঞ্চিত ১১৩৭ জনের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ

ঢাকা প্রেস নিউজ

 

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগবঞ্চিত ১,১৩৭ জনকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার পৃথক আপিলের শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করেন। এতে হাইকোর্টের পূর্বের রায় বহাল রাখা হয়, যেখানে তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
 

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ২৭তম বিসিএসে নিয়োগবঞ্চিত ১,১৩৭ জনের করা আপিল আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন। এর আগের দিন বুধবার আপিল বিভাগের বেঞ্চ রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন। আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন, এবং রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক উপস্থিত ছিলেন।
 

আইনজীবী সালাউদ্দিন দোলন জানান, ২৭তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় তৎকালীন সেনাসমর্থিত সরকার সেটি বাতিল করে এবং দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো আইনি এখতিয়ার ছিল না, এবং পিএসসি আইন ও বিধিতে দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের কোনো বিধান নেই। এই বিষয়গুলো আপিল বিভাগের শুনানিতে উপস্থাপন করা হয়।
 

মামলার বিবরণ: ২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি বিএনপি সরকারের সময়ে ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়, যেখানে ৩,৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। তবে ওই বছরের ৩০ জুন, জরুরি অবস্থার সময়, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এই ফল বাতিল করে সেনাসমর্থিত সরকার। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট সরকারের সিদ্ধান্তকে বৈধ ঘোষণা করেন। পরে রিটকারীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।
 

অন্যদিকে, ২০০৭ সালের ২৯ জুলাই ২৭তম বিসিএসের দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ২০০৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে ৩,২২৯ জন উত্তীর্ণ হন এবং তাদের নিয়োগ প্রদান করা হয়। এ নিয়ে প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা হাইকোর্টে তিনটি পৃথক রিট দায়ের করেন। ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর, হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণকে অবৈধ ঘোষণা করে।
 

পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ তিনটি লিভ টু আপিল দাখিল করে, যা কিছু পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ। এরপর বাতিল হওয়া ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য রিভিউ আবেদন করেন। ৭ নভেম্বর আপিল বিভাগ এই রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করে এবং শুনানির জন্য গ্রহণের আদেশ দেন।
 

এর ফলে প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগবঞ্চিতদের আইনি লড়াইয়ের পথ উন্মুক্ত হয়। অবশেষে, বুধবার আপিল বিভাগের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করা হয় এবং বৃহস্পতিবার আদালত রায় প্রদান করে নিয়োগবঞ্চিত ১,১৩৭ জনের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।