সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০১:৪৭:৪৪ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• চার দিনের সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান •       • নরসিংদীতে বাসার গ্রিল কেটে ৫০ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি •       • কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি টুটুল গ্রেপ্তার •       • মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: ধর্মমন্ত্রী •       • বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর অনশন •       • মাদারগঞ্জে গাছে মরিচ আসতেই অজানা মড়ক: লোকসানের মুখে কৃষকরা, দেখা মেলেনি কৃষি কর্মকর্তার •       • মুরাদনগরে সাবেক মেম্বারের বসতঘরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি •       • রাজধানীতে বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৩৪, মামলা ৩৭ •       • মুরাদনগরে ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি হোসেন গ্রেফতার •       • আল্লামা হাশেমী শিক্ষা বৃত্তি অর্জন: একই মঞ্চে বাবার গৌরব ও মেয়ের জোড়া সাফল্য •

সোনাহাট স্থলবন্দর সেতু; ৬ বছরেও শেষ হয়নি কাজ 

সোনাহাট স্থলবন্দর সেতু; ৬ বছরেও শেষ হয়নি কাজ 

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-

 

৬ বছর আগে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের ওপর দ্বিতীয় সোনাহাট সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময় পার হয়ে প্রকল্পের মেয়াদ আরও চারবার বাড়ানো হয়। তবুও কাজ শেষ হয়নি। এতে দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে দেশের সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার কাজ।

 

সোনাহাট স্থলবন্দর সেতু; ৬ বছরেও শেষ হয়নি কাজ 


 

ব্রিটিশ সরকার ১৮৭৯ সালে নর্দান বেঙ্গল রেলওয়ে ও আসামের সঙ্গে যোগাযোগ সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য পাইকেরছড়া ও সোনাহাট ইউনিয়ন সীমান্তে দুধকুমার নদের ওপর সোনাহাট রেলসেতু নির্মাণ করে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান-ভারত বিভক্তির পর সেতুটি দিয়ে রেল যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনী যাতে নদী পার হতে না পারে, সে জন্য সেতুর দুটি স্লিপার ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর সেখানে স্টিলের স্লিপার দিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়।
 

স্থলবন্দর চালু হলে সেতুটির গুরুত্ব বাড়ে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১৯ সালে পুরোনো সেতুর সামান্য দক্ষিণে দুধকুমার নদের ওপর ৬৪৫.০১৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের এ সেতুর কাজ করছে এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। ১৩৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকার এ সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালে। ঠিকদারি প্রতিষ্ঠানের ৪ দফা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কাজের সময় ও প্রকল্প ব্যয় বাড়লেও  এখন পর্যন্ত অর্ধেক কাজ বাকি। ফলে পুরোনো ও জরাজীর্ণ রেলসেতু দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। ঝুঁকি এড়াতে সেতুর ওপর একসঙ্গে উভয়মুখী যান চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। একমুখী ও ধীরগতির যাতায়াতের কারণে প্রতিদিন বিড়ম্বনায় পড়ছেন মানুষ ও যানবাহন।
 

সেতু পারের শফিকুল, শাহজাহান, ফরিদুলসহ অনেকেই বলেন, নড়বড়ে সেতুতে উঠলেই কাঁপতে থাকে। যাতায়াতের বিকল্প পথ না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই এ সেতু দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
 

সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী আবদুল খালেক, মিজানুর রহমান, নুর হোসেন ও জহুরুল ইসলাম বলেন, পুরোনো রেলসেতু দিয়ে পর্যাপ্ত মালপত্র পরিবহন করতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়ছি। গাড়ি লোড করে সময়মতো পার হওয়া যায় না। জানমালের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি করা পণ্য আনা-নেওয়ার কাজ। রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। 
 

গাফিলতির অভিযোগ করেছেন কুড়িগ্রামের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম। তাঁর দাবি, প্রথম দিকে জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, নকশা পরিবর্তন ও করোনাকালে স্থবিরতাসহ ঠিকাদারের কাজে ধীরগতির কারণে সেতু নির্মাণ শেষ করতে চারবার সময় বাড়ানো হয়েছে। প্রায় ৫৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে জনসাধারণের জন্য সেতু খুলে দেওয়া হতে পারে বলে জানান এ কর্মকর্তা।