সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০২:১৮:৩৩ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

চীনের পর্যটন স্বর্গ জিনজিয়াং, সৌন্দর্যের আড়ালে নিপীড়নের ছায়া

চীনের পর্যটন স্বর্গ জিনজিয়াং, সৌন্দর্যের আড়ালে নিপীড়নের ছায়া

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ জিনজিয়াং এখন দেশটির নতুন পর্যটন স্বর্গে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ সেখানে ভ্রমণ করেছেন। মনোমুগ্ধকর পাহাড়, হ্রদ, মরুভূমি ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা ভিড় জমাচ্ছেন এই অঞ্চলে। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক বিতর্কিত ও অন্ধকার অধ্যায়।
 

এক দশক আগেও জিনজিয়াং ছিল চীনের সবচেয়ে অশান্ত অঞ্চলগুলোর একটি। এখানকার তুর্কিভাষী মুসলিম জনগোষ্ঠী—উইঘুরদের ওপর দীর্ঘদিন ধরেই চীনা সরকারের দমন-পীড়নের অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, অন্তত এক মিলিয়নেরও বেশি উইঘুর মুসলিমকে তথাকথিত ‘পুনঃশিক্ষা শিবিরে’ আটক রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। — খবর বিবিসির।
 

এখন অবশ্য জিনজিয়াংয়ের চেহারা বদলে যাচ্ছে দ্রুত। বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে গড়ে উঠছে আধুনিক অবকাঠামো, বিলাসবহুল রিসোর্ট ও আন্তর্জাতিক হোটেল চেইন। চীনা কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য—২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৪০০ মিলিয়ন পর্যটক আকর্ষণ করা এবং পর্যটন খাত থেকে এক ট্রিলিয়ন ইউয়ান আয় নিশ্চিত করা। সামাজিক মাধ্যম ও টেলিভিশন নাটকে ‘অদ্ভুত সুন্দর জিনজিয়াং’কে উপস্থাপন করা হচ্ছে ‘চীনের গোপন স্বর্গ’ হিসেবে।
 

তবে সমালোচকেরা বলছেন, এই নতুন সাজানো জিনজিয়াং কেবল সরকারের নির্মিত মুখোশ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত উইঘুর অধিকারকর্মী ইরাদে কাশগারি বলেন, “সরকার এখন আমাদের সংস্কৃতিকে পর্যটনের পণ্য হিসেবে বিক্রি করছে। তারা দেখাচ্ছে, আমরা শুধু রঙিন পোশাকে নাচতে জানি—এর বাইরেও আমাদের অস্তিত্ব আছে, কিন্তু তা তারা আড়াল করছে। আমি আমার জন্মভূমিতে ফিরতে পারি না, অথচ হাজারো পর্যটক সেখানে নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটাই জিনজিয়াংয়ের প্রকৃত ট্র্যাজেডি।”